হেমতাবাদের বিধায়ক মৃত্যু মামলায় চার্জশিট পেশ সিআইডি-র

474

হেমতাবাদ: হেমতাবাদের বিধায়ক খুনের চার্জশিট শুক্রবার আদালতে জমা দিল সিআইডি। তবে চার্জশিটে কী লেখা রয়েছে সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে নারাজ সিআইডির কর্তারা। সিআইডি অফিসার রাজু ছেত্রীকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, যা বলার কলকাতার ভবনী ভবন থেকে বলবে। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া আমরা কোন মন্তব্য করতে পারব না।

বিজেপি জেলা নেতা তথা রায়গঞ্জ জেলা আদালতে আইনজীবী গোপাল মজুমদার বলেন, সোমবার আদালতে আবেদন করে সার্টিফাই নেওয়া হবে। এরপরেই বোঝা যাবে সিআইডি নিরপেক্ষ তদন্ত করেছে কিনা। বিধায়ককে খুনের একই কায়দায় খুন হয়েছে অনুপ রায়। এই নিয়ে শুধু প্রশ্ন চিহ্নই ওঠা নয়, বেশ কিছু মিলও খুঁজে পাচ্ছে তথ্যবিজ্ঞ মহল। তাদের যুক্তি, বিধায়কের মৃত্যুকে প্রথমে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ আত্মহত্যা বলেই চালানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গিয়েছে বিধায়ককে খুন করা হয়েছে এবং ওই খুনের ঘটনায় সিআইডি দু’জনকে গ্রেপ্তারও করে। একই কায়দায় অনুপ রায়ের মৃত্যুকেও রায়গঞ্জ থানার পুলিশ স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই চালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তার মা খোদ রায়গঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই ইটাহার থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিধায়ক খুন ও অনুপ রায় খুনের পিছনে কিন্তু বারবার রায়গঞ্জ থানার নামই উঠে এসেছে। অনুপ রায় খুনের ঘটনায় যেমন খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে এর পিছনে নিছকই কোনও পুলিশের অত্যাচারে অনুপ খুন হয়েছে! সেটা যদিও মানতে নারাজ বিরোধী রাজনৈতিক মহল।

- Advertisement -

তথ্যবিজ্ঞ মহলের মতে, বিধায়ক এবং অনুপ রায় খুনের পিছনে রয়েছে অনেক বড়ো প্রভাবশালী কোনও এক রাজনৈতিক নেতার মদত। তার মদতেই জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের অঙ্গুলিহেলনেই দু’দুটি প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সিআইডি তদন্তে বিধায়ক খুনের মামলায় এখনও পর্যন্ত মাত্র দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও সেই খুনের নেপথ্যে যে খলনায়ক, সে কিন্তু এখনও অধরাই রয়ে গিয়েছে। সেই খলনায়কের নির্দেশেই অনুপকেও যে খুন করা হয়েছে সেটা গেরুয়া শিবিরের নেতারা থেকে জেলার রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই খুব সহজেই তার কানাঘুষো শোনা যায়।

এদিকে পুলিশের নাম এভাবে সরাসরি কখনো জড়ায়নি যেটা অনুপ রহস্য মৃত্যু মামলায় অন্য কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ না হোক খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। এবার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সেই প্রভাবশালীর টিকি কী সিআইডি ছুঁতে পারবে? সেই প্রশ্নই কিন্তু উঠছে বিভিন্ন মহলে। দেবেন রায়ের খুনের মামলায় যার যোগ রয়েছে বলে গেরুয়া শিবিরের নেতারা দাবি করেছেন তাকে কিন্তু আজও জেরা, জিজ্ঞাসাবাদ করার দিকে সিআইডির তদন্তকারীরা এগোয়নি। অনুপ রায়ের খুনের মামলায় সিআইডির তদন্ত কী শুধু পুলিশের আধিকারিককেই জেরা, জিজ্ঞাসাবাদ করেই শেষ হবে নাকি শেষ পর্যন্ত সেই দোর্দণ্ড প্রতাপ প্রভাবশালী সাগরেদ দু-একজনকে গ্রেপ্তার করেই তদন্ত শেষ হবে!