বর্ধমানে স্বর্ণ ঋণদান সংস্থায় ডাকাতির তদন্তে এবার তামিলনাডু যাচ্ছে সিআইডি

125

বর্ধমান: বর্ধমান শহরের স্বর্ণ ঋণদান সংস্থায় ডাকাতির ঘটনার তদন্তে এবার তামিলনাডু যাচ্ছে সিআইডি। সেখানকার হাডকো থানার পুলিশ একটি স্বর্ণ ঋণদান সংস্থায় ডাকাতির ঘটনায় রূপসিং বাঘাল নামে এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্ধমান শহরের বি সি রোড এলাকায় থাকা স্বর্ণ ঋণদান সংস্থায় হওয়া ডাকাতির ঘটনা নিয়ে রূপসিংকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে এই রাজ্যের সিআইডি। তামিলনাডু গিয়ে রূপসিংকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার বর্ধমান আদালতের অনুমতি পেয়ে গিয়েছেন সিআইডির তদন্তকারী অফিসার। ধৃত রূপসিং বাঘেলকে জিজ্ঞাসাবাদে সব ধরনের সাহায্য করার জন্য তামিলনাডুর সালেম জেলের সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবারই তামিলনাডু রওনা দিয়ে দিয়েছে সিআইডির তদন্তকারী দল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রূপসিং বাঘাল বিভিন্ন জায়গায় ব্যাংক ও ঋণদান সংস্থায় ডাকাতিতে জড়িত। তার বাড়ি বিহারের বৈশালির হাজিপুরের বত্রিশ গঙ্গা ব্রিজ কলোনিতে। পুলিশের খাতায় ধৃতের আরও কয়েকটি নাম রয়েছে। কোথাও সে রূপ সিং, আবার কোথাও সে শুভম প্যাটেল, সুরজ সিং, ভুটান, নিরন্তক নামে পরিচিত। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ডাকাতিতে জড়িত রয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। তামিলনাডুতে বেসরকারি ঋণদান সংস্থাটিতে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তদন্তে নেমে হাডকো থানার পুলিশ রূপসিংকে গ্রেপ্তার করে। হেপাজতে থাকা অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদ করে বর্ধমানে ঋণদান সংস্থায় ডাকাতিতে তার জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে পারে হাডকো থানার পুলিশ। সেখান থেকেই বিষয়টি এই রাজ্যের সিআইডিকে জানানো হয়। ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি বাইকের সন্ধানও সেখানকার পুলিশ পেয়েছে। যে বাইকের কাগজপত্র ইতিমধ্যেই সিআইডি হাওড়ার ডোমজুর থানার মনসাডাঙার একটি দোকান থেকে বাজেয়াপ্ত করেছে।

- Advertisement -

২০২০ সালের ১৭ জুলাই শহর বর্ধমানের স্বর্ণ ঋণদান সংস্থায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন বেলা ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ কয়েকজন দুষ্কৃতী সংস্থাটির অফিসে ঢোকে। তারা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মীদের একটি ঘরে আটকে রেখে স্ট্রংরুম থেকে ৩০ কেজি ২০৫ গ্রাম ২০ মিলিগ্রাম সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেওয়া শুরু করে। সেই সময় বাধা পেয়ে ডাকাতরা বর্ধমান শহরের সরাইটিকরের বাসিন্দা হীরামন মণ্ডলকে গুলি করে। অপারেশন সেরে বাইকে চেপে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। সোনার ব্যাগে জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে ডাকাত দলের গতিবিধি জানতে পারেন সিআইডির গোয়েন্দারা। ডাকাত দলটি কলকাতার বাগুইআটি থানার কৃষ্ণপুরে বেশ কিছুদিন ঘরভাড়া নিয়ে ছিল। সেখানে বসেই তারা স্বর্ণ ঋণদান সংস্থায় ডাকাতির পরিকল্পনা করে। সেই ঘর থেকে পুলিশ কয়েকটি মদের গ্লাস, হেলমেট উদ্ধার করে। গ্যাংটি শিলিগুড়ি, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও পঞ্জাবে স্বর্ণ ঋণদান সংস্থায় ডাকাতিতে জড়িত বলে জানতে পেরেছেন সিআইডির গোয়েন্দারা।