চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগ স্বঘোষিত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে, তদন্তে সিআইডি

1358

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগ একদল স্বঘোষিত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা করে প্রায় ১০০ কোটি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

কালিয়াগঞ্জের মালগাঁওয়ের পঞ্চায়েত সদস্য শ্যামল সরকার জানান, চাকরি দেওয়ার নাম করে একাধিক যুবক-যুবতীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছে অভিযুক্ত তারাপদ দেবশর্মা ও অনন্ত রায়। তারাপদ এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। মালগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কলাবতী বর্মণের কথায়, ‘তারাপদ দেবশর্মা তৃণমূলের কোন পদে নেই, দলেও নেই। তিনি স্বঘোষিত তৃণমূল নেতা।’

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই ২০ জনের একজন অনন্ত রায়ের বাড়ি রায়গঞ্জ থানার রুপাহার এলাকায়। তার বাড়িতেই চাকরি দেওয়ার নামে একটি অফিস খোলা হয়। শুধু উত্তর দিনাজপুরেই নয় উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় শাখা অফিস রয়েছে। নিজেকে একটি নিরাপত্তারক্ষীর কমান্ডেনট বলে পরিচয় দিত।

দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মালদা, রায়গঞ্জেও একইভাবে চাকরি দেওয়ার নাম করে বেকার ছেলেমেয়েদের ইন্টারভিউ নিয়েছে অভিযুক্ত। সম্প্রতি রায়গঞ্জের একটি হোটেলে উঠে স্বাস্থ্যদপ্তরে গ্রুপ ডি পোস্টে চাকরি দেওয়ার নাম করে ইন্টারভিউ নেয়। ওই সময় চাকরি প্রার্থীদের ফর্ম ফিলাপ ও রেজিস্ট্রেশনের নাম করে ২ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যারা টাকা দিয়েছিলেন তাদের এদিন নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা ছিল।

চাকরি পাকা করতে ও নিয়োগপত্র পেতে আরও এক লক্ষ টাকা করে দাবি করে অভিযুক্ত অনন্ত রায়। শুরুতে ১৫ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হবে বলে প্রার্থীদের জানিয়েছিল সে। নিয়োগপত্র নিতে এদিন রুপাহারে তার নিজের বাড়ির মধ্যে অবস্থিত অফিসে আসতে বলা হয়। ফোনে জানানো হয় টাকা নিয়ে আসার কথা। বিষয়টিতে কয়েকজনের সন্দেহ হয়। এরপর প্রার্থীরা রায়গঞ্জ থানার ভুপালপুর এলাকায় আসতে বলে। তার কথার অসংগতি দেখতে পেয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে গ্রামের বাসিন্দারা।

পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অনন্ত রায় ও তার সঙ্গীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছে রায়গঞ্জ থানার সিভিক ভলেন্টিয়ার ও গ্রামীণ পুলিশ মানিক বর্মন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জাল নথি ও নিয়োগপত্র রয়েছে প্রতারিতদের কাছে। এছাড়াও রয়েছে একাধিক ভিডিও ক্লিপিং।

কোভিড হাসপাতালে কর্মরত হায়দার আলী বলেন, ‘তিন লক্ষ টাকা দিয়ে আমাকে কোভিড হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়ের কাজ দিয়েছে। আমাকে বলা হয়েছিল দু’মাসের মধ্যে পার্মানেন্ট হয়ে যাবে। কিন্তু আমি জানতে পারলাম অগাস্ট মাস শেষ হয়ে গেলেই রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাবে। এরকম আরও ১০০ জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে অভিযুক্ত।

যদিও পুলিশের এক আধিকারিক জানান, বিষয়টি সিআইডি দেখছে। মোট ২০ জনের একটি চক্র রয়েছে। অনন্ত রায়, তারাপদ দেবশর্মা সহ বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। জেলা পুলিশের গোয়েন্দারা। উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে।

এনিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, ‘দলের নাম ভাঙিয়ে কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণা করে তার বিরুদ্ধে পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। আমাদের দলে কোনও দুর্নীতিগ্রস্তদের জায়গা নেই। আমি যা খবর পেয়েছি আমাদের দলের কোনও সদস্য নয় ওই অভিযুক্ত।

যদিও বিজেপি জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, ‘যে পারমিশনটা ওরা নিয়ে এসেছে সেটা নবান্নের ঠিকানা লেখা রয়েছে। অভিযুক্তদের জেলায় একাধিক অফিস রয়েছে। এতদিন ধরে চাকরি দেওয়ার নাম করে ১০০ কোটি টাকার ওপর নিয়ে বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতারণা করেছে। সেটা গোয়েন্দাদের নজরে এলো না নাকি জেনেও না জানার ভান করেছিল।

যদিও প্রতারিত যুবক-যুবতীরা সমস্ত বিষয় ‘দিদিকে বলো’তে ফোন করে পিকের দলকে জানিয়েছে।