বিজেপির যুবনেতার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে সিআইডি

518

রায়গঞ্জ: বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের পর এবার বিজেপির যুবনেতা অনুপ রায়ের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায়ও সিআইডি তদন্ত শুরু হচ্ছে। পাঁচ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে অনুপ রায়কে খুনের অভিযোগ দায়ের হওয়ায় ওই মামলার তদন্ত এখন সিআইডির হাতে তুলে দিচ্ছে জেলা পুলিশ। তবে খুনের ওই মামলায় প্রায় ৭২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা এমনকি দোষীদের চিহ্নিত করার কাজও করতে পারেনি জেলা পুলিশের তদন্তকারীরা। ফলে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠায় জেলা পুলিশ নিজেদের ঘাড় থেকে দায় ঝেড়ে ফেলে সিআইডির হাতে তদন্তের দায়িত্বভার তুলে দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও খুনের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরৃ হয়েছে, সেই রায়গঞ্জ থানার পাঁচ পুলিশ অফিসার এখনও বহাল তবিয়তেই থানায় রয়েছে। তাঁদেরকে শোকজ করা বা অন্যত্র সরিয়েও দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই মামলায় অপরাধীরা আদৌ গ্রেপ্তার বা কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে মৃতের পরিবার থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলও। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, সমস্ত কাগজপত্র রেডি করা হয়েছে। তদন্তের ভার সিআইডিকে দেওয়া হচ্ছে।

- Advertisement -

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার বেলেঘাটায় ফরেনসিক ল্যাবে অনুপ রায় মৃতদেহের বিভিন্ন অংশের রিপোর্ট আসার পরেই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তুলে দেওয়া হবে সিআইডির হাতে। পাঁচ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে খুনের মামলা এবং অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা সত্ত্বেও কেন তাঁদেরকে রায়গঞ্জ থানাতেই বহাল তবিয়তে রাখা হয়েছে তা নিয়েই পুলিশ মহলে উঠেছে প্রশ্ন। থানায় কর্তব্যরত এই পুলিশ অফিসাররা তদন্তের কাজে প্রভাবিত করতে পারে বলেই বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে গত ৩ তারিখ অনুপ রায়কে বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্রধারী কয়েকজন নিজেদের পুলিশকর্মী পরিচয় দিয়ে তুলে আনে রায়গঞ্জ থানায়। পুলিশের দাবি অনুসারে, সুস্থ অবস্থায় তাঁকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর মৃতের মা ইটাহার থানায় পাঁচ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। ইতিপূর্বেও রায়গঞ্জ থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হওয়ায় খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল তাঁর দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে এসে থানায় বিক্ষোভ এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য হুঁশিয়ারিও দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও হাল বদলায়নি রায়গঞ্জ থানা এলাকায়।

বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ীর বক্তব্য, থানার আইসি থেকে সমস্ত ইন্সপেক্টর এই খুনের ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যোগ রয়েছে। এদেরকে থানায় রেখে সিআইডি তদন্তই হোক আর যে তদন্তই হোক না কেন, কোনওভাবেই প্রকৃত অপরাধীদের ধরা যাবেনা বরং বিষয়টিকে আড়াল করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হবে। বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, সিবিআই তদন্তের জন্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অনুপ রায়ের খুনের ঘটনায় কেউ পার পাবে না। সিবিআই তদন্ত হচ্ছেই শুধু সময়ের অপেক্ষা।