বর্ধমানের সোনা লুটের তদন্তে নামল সিআইডি

268

বর্ধমান: বর্ধমানের স্বর্ণঋণ সংস্থা থেকে সোনা লুটের ঘটনার তদন্তে নামলো সিআইডি। শনিবার পাঁচ সদস্যের সিআইডি দল বর্ধমান শহরের বি সি রোডের ওই স্বর্ণঋণ সংস্থার অফিসে তদন্তে যান। গোটা অফিস খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তারা সংস্থার অফিসের কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। যদিও পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের কর্তাদের প্রাথমিক ধারণা স্বর্ণঋণ সংস্থা থেকে সোনা লুটের ঘটনায় আন্তঃরাজ্য দুষ্কৃতীদের যোগ থাকতে পারে।

সোনা লুটের কিনারা করতে সিআইডির পাশাপাশি ভিন জেলা ও ভিন রাজ্যের পুলিশেরও সাহায্য নিচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। সিআইডিও প্রতিবেশী রাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলেছে। জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় শনিবার বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনায় আন্তঃরাজ্য দুষ্কৃতীদের যোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’’

- Advertisement -

বর্ধমান থানার নাকের ডগায় জনবহুল বিসি রোড এলাকায় থাকা একটি স্বর্ণঋণ সংস্থায় শুক্রবার চড়াও হয় একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী। সংস্থার কর্মীদের মারধর করে ভয় দেখিয়ে আটকে রেখে দুস্কৃতীরা সোনা লুট করে। লুটপাট চালিয়ে পালানোর সময়ে বাধা পেয়ে রিভালবারের বাঁট দিয়ে এক টোটো চালক হীরামন মণ্ডলের মাথায় আঘাত করে। পরে দুস্কৃতীরা গুলি চালিয়ে ওই টোটো চালককে জখম করে বাইকে চেপে পালায়।

বর্তমানে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই টোটো চালক। স্বর্ণঋণ সংস্থার বর্ধমানের ম্যানেজার কৌশিক ঘোষ, ঘটনার বিষয়ে বর্ধমান থানায় এফআইআর করেছেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘দুষ্কৃতীদের একজন বাংলায় কথা বলছিল। বাকিরা সবাই হিন্দিতে কথা বলছিল। তারা ২৯ কেজি ৫০০ গ্রাম সোনা লুট করেছে।’ এরই পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী পুলিশ কর্তাদের ধারণা তৈরি হয়েছে সোনা লুটের ঘটনায় আন্তঃরাজ্য দুষ্কৃতীদের যোগ থাকতে পারে। দুষ্কৃতীদের টেকনিক্যাল জ্ঞানও রয়েছে বলে পুলিশ মনে করছে।

পুলিশের দাবি, টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকার কারণেই দুষ্কৃতীরা সোনা লুটের পর সোনালি রংয়ের ‘ট্র্যাকার’ আলাদা করতে পেরেছে। ঘটনার পর জেলা পুলিশ জিপিএস পদ্ধতিতে ওই ‘ট্র্যাকার’ এর সিগন্যাল পায় খণ্ডঘোষের বাদুলিয়ার একটি পুকুরে। যদিও সেখানে দু’দিন ধরে তল্লাশি চালিয়েও পুলিশ ‘ট্র্যাকার’ উদ্ধার করতে পারেনি। পুলিশের ধরণা লুটের আগে দুষ্কৃতীরা নানা অছিলায় সংস্থার অফিসে এবং এলাকায় বেশ কয়েকবার রেইকি করে গিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ কর্তারা নিশ্চিৎ হয়েছেন দুষ্কৃতী দলে ৫-৬ জন ছিল। দুষ্কৃতীদের নাগাল পাওয়ার জন্য পুলিশ ও সিআইডি এখন সর্বত ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।