গোয়া চলচ্চিত্র উৎসবে হলদিবাড়ির তরুণের ছবি

162

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি : গল্পের বিষয়বস্তু খুব সাধারণ কিছু মানুষ। তাঁদের নিয়ে কাহিনীচিত্র হলদিবাড়ির তরুণ তুর্কি সত্রাবিত পালের নিতান্তই সহজ সরল। চলতি মাসে গোয়ায় ৫২তম ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল (আইএফএফআই-২০২১)-এর প্যানোরামা বিভাগে সত্রাবিতের এই ছবি দেখানো হবে। ১৯৫২ সালে শুরু হওয়ায় এই চলচ্চিত্র উৎসবকে সংশ্লিষ্ট মহলে কুলীন হিসাবে ধরা হয়। সেখানে সত্রাবিত সুযোগ পাওয়ায় উত্তরে আনন্দের বাঁধ ভেঙেছে।

কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রক ও গোয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে ২০ নভেম্বর থেকে আইএফএফআই-২০২১ শুরু হচ্ছে। টানা নয়দিন ধরে উৎসব চলবে। উৎসবের প্যানোরামা বিভাগে পাঁচটি বাংলা ছবির ঠাঁই হয়েছে। সত্রাবিতের ছবি ছাড়া এই বিভাগে যে ছবিগুলি রয়েছে সেগুলি হল- প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ে অভিযান, ব্রাত্য বসু পরিচালিত ডিকশনারি, অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত মানিকবাবুর মেঘ এবং শর্মিষ্ঠা মাইতি ও রাজদীপ পালের সাড়া জাগানো কালকক্ষ। তবে বিশেষ কারণে উৎসবে শেষপর্যন্ত ডিকশনারি দেখানো নাও হতে পারে।

- Advertisement -

ফেরা যাক সত্রাবিতের কথায়। নিতান্তই সহজ সরল আবর্তিত হয়েছে নিতান্তই সহজসরল এক আইসক্রিম বিক্রেতাকে ঘিরে। হলদিবাড়ি ব্লক ও সংলগ্ন অঞ্চলের অতি সাধারণ মানুষদের সহজসরল জীবনযাত্রাকে সত্রাবিত তাঁর এই ছবিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সেলুলয়েডে নতুন কিছু করার চেষ্টায় সত্রাবিত ২০১৫ সালে এই সিনেমার গল্প লেখেন। সহলেখক কমলেশ রায়। হলদিবাড়ির সত্রাবিত বিশ্বভারতী থেকে নাটক নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। একই এলাকার বাসিন্দা কমলেশ যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র।

অভিনয়ে জন্য হলদিবাড়ি প্রগতি যুব নাট্য সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। মূল অভিনেতা অমিত সাহা (অমিত কালকক্ষতেও অভিনয় করেছেন) বাদে প্রত্যেকেই হলদিবাড়ি প্রগতি যুব নাট্য সংস্থার সদস্য। অভিনেতা, গায়ক-গায়িকা সহ ৩২ জনের অবদানে সিনেমা প্রাণ পায়। করোনার কোপ শুরুর আগে ২০২০ সালের গোড়ার দিকে ছবির মহরত। তিনদিন শুটিং চলার পর লকডাউনের জেরে শুটিং বন্ধ। চলতি বছরে আরও পাঁচদিন ধরে ছবির শুটিংয়ে সবকিছু সারা। হলদিবাড়ি ব্লকে গ্রামগঞ্জের মাঠেঘাটে ছবির শুটিং চলেছে। হেমকুমারী, সাতকুড়া, বালাডাঙ্গা, পারমেখলিগঞ্জ সহ সংলগ্ন এলাকার টুকরো ছবি ছাড়াও তিস্তা এই ছবিতে ধরা দিয়েছে। ১ ঘণ্টা ২২ মিনিটের সাদাকালো এই ছবিতে ডিরেক্ট সাউন্ডে শুটিং করা হয়েছে। ছবিটির প্রযোজনা করেছেন নিমাই শাসমল।

সত্রাবিত বলছেন, বাবা সুবোধ পাল হলদিবাড়ি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলার শিক্ষক ছিলেন। হলদিবাড়ির মানুষকে নাট্যপ্রেমী করে তুলতে তাঁর উদ্যোগ স্মরণীয়। একাধিক নাট্য সংস্থা গড়েন। বাবার কাছেই অভিনয় চর্চার হাতে খড়ি। আজ বাবা বেঁচে থাকলে এই খবরে খুব খুশি হতেন। সত্রাবিতের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হলদিবাড়ি। নাট্যকর্মী গৌতম ভট্টাচার্য বলছেন, উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক শহর হলদিবাড়ির বাসিন্দা সত্রাবিতের এই সাফল্য উত্তরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে। নাট্যকর্মী দীপক দত্তের কথায়, কঠোর অধ্যবসায় ফসল পেয়েছে সত্রাবিত। ও আরও এগিয়ে যাবে বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।