রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : মিরিকের কমলালেবুর য়েমন খ্যাতি রয়েছে, তেমনই এখানকার অর্কিডের চাহিদাও প্রচুর। মিরিকের বড়ো এলাচ রপ্তানি হয় পাকিস্তান, সৌদি আরবের মতো দেশগুলিতে। অথচ প্রচারের আলোয় সেভাবে আসেনি মিরিকের এই চাষের এলাকাগুলি। মিরিক মানেই যে শুধু লেক আর বোটিং নয়, সেটাকে বোঝাতেই এবার প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মিরিকে আসুন, থাকুন, দেখুন এই চিন্তাকে ছড়িয়ে দিতে সার্কিট টুরিজমের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। মিরিকের মহকুমাশাসক অশ্বিনীকুমার রায় বলেন, এই মহকুমায় পর্যটকরা আরও বেশি সংখ্যায় আসুন, এখানে থাকুন, এটাই আমরা চাই। সেইজন্য সমস্ত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দার্জিলিংয়ের পর্যটন মানচিত্রে মিরিক একটি অন্যতম নাম। চা বাগানের মধ্যে একটি ছোট্টো লেককে ঘিরেই মিরিক পর্যটনের যাত্রা শুরু। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে সেই চা বাগানের জমি নিয়ে লেককে বড়ো করা হয়েছে। সেখানে বোটিং চালু করা হয়েছে। কিন্তু মিরিকে বরাবরই দিনে গিয়ে ঘুরে ফিরে আসার পক্ষপাতী পর্যটকরা। তা সে শিলিগুড়ি থেকেই হোক বা দার্জিলিং থেকে। পর্যটকরা রাতে সেখানে না থাকায় মিরিকের অর্থনীতি সেভাবে উন্নত হচ্ছে না। বর্তমানে সেখানে প্রচুর হোটেল হয়েছে। মিরিক লেক, কৃষ্ণনগর বাজার এবং সংলগ্ন এলাকাকে সাজিয়েছে পুরসভা। পাশাপাশি মিরিক শহরের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে থাকা ২৬টি গ্রামে গড়ে উঠেছে প্রচুর হোমস্টে। ফলে পর্যটকদের রাত্রিবাসের একটা ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু প্রচারের অভাবে এখনও সেভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি মিরিকের টুরিজম। ২০১৭ সালে মিরিক পৃথক মহকুমা হওযার পর থেকেই এখানকার পর্যটনকে তুলে ধরতে নতুন করে উদ্যোগ নেওযা হয়। শুধু মিরিক লেকের সংস্কার বা এলাকার সৌন্দর্যায়নই নয়, মিরিকে যে আরও বেশ কিছু আকর্ষণ রয়েছে সেগুলিকে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। মিরিকের মহকুমাশাসক বলেন, মিরিকে আমরা সার্কিট টুরিজম চালু করছি। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মিরিকে প্রচুর পর্যটক আসেন। তাঁরা যাতে এখানে দুরাত থেকে এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মিরিকের কমলালেবুর বাগান খুবই বিখ্যাত। এর পাশাপাশি এখানকার গ্রামগুলিতে প্রচুর বড়ো এলাচ হয়। বিভিন্ন নার্সারিতে অর্কিডের চাষও হয়। আমরা এই অঞ্চলগুলিতে পর্যটকদের ঘোরানোর ব্যবস্থা করছি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই এখানকার ছোটো গাড়ির চালকদের সংগঠনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। মিরিকে যে পর্যটকরা আসবেন, তাঁরা এই গাড়িতে করে বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখতে পারবেন। গাড়ির চালকরাই তাঁদের গাইড হিসাবে সমস্ত কিছু ঘুরিয়ে দেখাবেন। আমরা চাই পর্যটকরা মিরিকে এসে দুদিন থেকে লেকের আনন্দ নিন, বোটিং করুন, কৃষ্ণনগর বাজারে কেনাকাটা করুন, পাশাপাশি গোটা মিরিকেই ঘুরে এখানকার কমলালেবু, অর্কিড এবং এলাচ বাগান দেখুন। আমরা এখানে একটি প্রজাপতি পার্ক তৈরিরও চেষ্টা করছি। মিরিকের এই সার্কিট টুরিজম নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। শিলিগুড়ির পর্যটন ব্যবসাযী রাজ বসু বলেন, মিরিক পর্যটন মানচিত্রে ধীরে ধীরে অনেকটাই উন্নত হচ্ছে। প্রচুর হোমস্টে হয়েছে। পর্যটকরা সেখানে গিয়ে রাত্রিবাস করছেন। এই সার্কিট টুরিজম প্রকল্প চালু হলে আরও বেশি পর্যটক এখানে আসবেন বলে আমরা আশাবাদী।