করোনায় মৃত্যু কলকাতা জাদুঘরে কর্মরত সিআইএসএফ জওয়ানের

কলকাতা:  গোটা রাজ্য জুড়ে থাবা বসিয়েছে করোনা। এবার করোনার হানা কলকাতা জাদুঘরে৷ মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক সিআইএসএফ জওয়ানের৷

জাদুঘরে কর্মরত বর্ধমানের কালনার বাসিন্দা সিআইএসএফ-এর এক সাব-ইন্সপেক্টর বুধবার অসুস্থ হয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ওই সিআইএসএফ জওয়ানের করোনা উপসর্গ লক্ষ্য করায় তাঁকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখেন। এরপর তাঁর লালার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে। বৃহস্পতিবার রাতেই ওই সিআইএসএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে রিপোর্ট এলে দেখা যায়, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।

- Advertisement -

সিআইএসএফ-এর ওই জওয়ানের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়ার পরই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে কলকাতা জাদুঘর কর্তৃপক্ষ৷ জাদুঘরে কর্মরত সিআইএসএফ-এর বাকি ৩৩ জন কর্মী, অফিসার ও জওয়ানকে কোয়ারান্টিনে রাখা হয়। জাদুঘরে কর্মরত অন্যান্য কর্মীদের ও অফিসে আসতে বারণ করা হয়েছে। লকডাউনে জাদুঘর দর্শকদের জন্য বন্ধ থাকলেও অফিস খোলা ছিল। করোনা আতঙ্কে এবার জাদুঘর পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল জাদুঘর কর্তৃপক্ষ৷ জাদুঘর সূত্রে পাওয়া খবরে জানা যায় যে, মৃত ওই সিআইএসএফ-এর সাব ইন্সপেক্টরের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে আলাদা করে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাঁদের প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই সিআইএসএফ জওয়ানের পরিবারকেও সতর্ক করা হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, এর আগে রাজ্যে ৬ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ান করোনায় আক্রান্ত হন। রাজ্যের সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল এসেছিল, তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ওই বিএসএফ জওয়ানরা। এই ঘটনার পর আবারও কলকাতা জাদুঘরে সিআইএসএফ-এর সাব ইন্সপেক্টরের মৃত্যুর পর করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এর আগে দিল্লিতেও সিআইএসএফ-এর ব্যারাকে বেশ কয়েকজন সিআইএসএফ জওয়ান করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী থেকে শুরু করে নিরাপত্তার বিভিন্ন কাজে যে সমস্ত জওয়ানরা কর্মরত রয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকে যাতে আরও বেশি করে সতর্কতা ও সুরক্ষার সঙ্গে কাজ করেন, সেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বেহালার বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল করোনা আক্রান্ত হন এক প্রসূতি। আর তার জেরে জেরে ওই হাসপাতালটির প্রসূতি বিভাগটিকে যেমন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তেমনি সেখানকার ২২ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীকে পাঠানো হয়েছে কোয়ারান্টিনে। এছাড়া ঠাকুরপুকুরের এক বেসরকারি হাসপাতালের দুই কর্মীর করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। তার জেরে সেই হাসপাতালটিকে বন্ধ করে দিয়ে সেখানকার ১২ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে। আক্রান্ত ওই কর্মী দুজনকে পাঠানো হয়েছে এম আর আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। অপরদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে এক ব্যক্তির করোনায় মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানা গিয়েছে।