মাস্ক পরা নিয়ে ধুন্ধুমার কান্ড চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে

339

সামসী: মাস্ক পরা নিয়ে বুধবার উত্তেজনা ছড়াল চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বরে। এদিন কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের তরফে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয় চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। রক্ত দান করে দুই কর্মী মাস্ক ছাড়া বাইরে এলে তাঁদের এক সিভিক ভলান্টিয়ার মারধর করে বলে অভিযোগ ছাত্র পরিষদের। এরপরই শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ছাত্র পরিষদদের বচসা। বচসা থেকেই হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ পর্যায়ে পৌঁছায় যে চাঁচল থানার বিশাল পুলিশবাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

চাঁচল হাসপাতাল সূত্রে খবর, এদিন প্রাক্তন মুখ‍্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত‍্যু বার্ষিকী স্মরণে চাঁচল ১ ব্লক ছাত্র পরিষদ স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে। চাঁচল হাসপাতালের ব্লাড ব‍্যাঙ্ক সেই শিবিরে রক্ত সংগ্রহ করতে আসে। রক্তদান চলাকালীন এক ছাত্র পরিষদ সদস‍্য রক্ত দিয়ে মাস্ক না পরেই শিবির থেকে বের হয়। মাস্ক না পরে থাকায় হাসপাতাল গেটে কর্মরত এক সিভিক কর্মী জানতে চান কেন মাস্ক নেই। এনিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এমতাবস্থায় ওই সিভিক কর্মী ছাত্র পরিষদের কর্মীর ওপর মৃদু লাঠি চার্জ করে বলে অভিযোগ। এনিয়ে ব‍্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে। ছাত্র পরিষদের দাবি, কেন সংগঠনেরকে মারা হল? প্রতিবাদে প্রায় ঘন্্যটা খানেক বিক্ষোভ চলে হাসপাতাল চত্ত্বরে।

- Advertisement -

ঘটনার খবর যায় চাঁচল থানায়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালে পৌঁছায় চাঁচল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এরপর ছাত্র পরিষদের ছেলেরা পুলিশ ও পুলিশের গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। লাঠি চার্জ করায় অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানানো হয় ছাত্র পরিষদের তরফে।

পুলিশের বক্তব্য, রক্তদান মহৎ কাজ। ছাত্র পরিষদ কর্মীকে কোনও ভাবেই লাঠি চার্জ করেননি কর্মরত সিভিক কর্মী। পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। পাল্টা পুলিশের দাবি, বিনা মাস্কে হাসপাতাল থেকে বের হয় এক ছাত্র পরিষদ কর্মী। তাঁকে শুধু প্রশ্ন করা হয়েছিল মাস্ক নেই কেন? তাতেই উত্তেজিত হয়ে তাঁরা গন্ডগোলের সৃষ্টি করে।

চাঁচলের এসডিপিও সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, পুলিশ এই মহামারী কালে মানুষের স্বার্থে দিবারাত্রি পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তারপরেও সমাজ পুলিশকেই বদনাম করে। বিষয়টা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ছাত্র পরিষদের চাঁচল ১ ব্লক কনভেনার দিলু কাজী বলেন, ছাত্র পরিষদের ওই কর্মীর মুখে মাস্ক ছিল। কিন্তু রক্ত দিয়ে বের হওয়ার সময় নাকের নীচে মাস্কটি নামিয়ে রাখে। পুলিশ অন্যায় ভাবে তাঁদের কর্মীকে লাঠি চার্জ করে। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সবিষয়টি দল এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

চাঁচল ১ এর বিএমওএইচ ডঃ আখতার হোসেন বলেন, হাসপাতালের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।