বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত গুসকরা, আহত ৬

107

বর্ধমান: টাকা পয়সা সংক্রান্ত বিষয়ে বিজেপির দুই নেতার কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হতেই বেঁধে গেল বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ঘ। সোমবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায় নদীপটি এলাকায় বিজেপির নির্বাচনি কার্যালয়ের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি কর্মী ও কার্যকর্তারা। সেই গোষ্ঠী সংঘর্ষে এক মহিলা সহ বিজেপির ৬ নেতা কর্মী আহত হয়েছেন। গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আহতদের উদ্ধার করে গুসকরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিজেপি কর্মীরা জানান, গুসকরা নগর বিজেপি কমিটির সভাপতি পতিতপাবন হালদারের সঙ্গে গুসকরার আর এক বিজেপি নেতার মধ্যে টাকা পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিছু কথোপকথন হয়। সেই কথোপকথনের অডিও ক্লিপিংস ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকার বিজেপি কর্মীরা পতিতপাবন হালদারের কাছে জানতে চাইলে অশান্তি তৈরি হয়। তা নিয়ে সোমবার রাতে গুসকরার নদীপটি এলাকার বিজেপি কার্যালয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়। অডিও ক্লিপিংসয়ের বিষয়ে কৈফিয়ত চাওয়া নিয়ে ওই বৈঠকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারই মধ্যে  পতিতপাবনের গোষ্ঠীর লোকজনের সঙ্গে যুব মোর্চার গুসকরা শহর কমিটির সভাপতি সৌভিক হেঁসের গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে প্রথমে বচসা পরে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে এক মহিলা ও যুব নেতা সৌভিক হেঁশ সহ দুই পক্ষের ৬ জন আহত হন।

- Advertisement -

সৌভিক হেঁশ জানিয়েছেন, নির্বাচনি কার্যালয়ে আলোচনা চলাকালীন তৃণমূলের কিছু লোকজনকে নিয়ে নগরের সভাপতি তাঁদের উপরে চড়াও হন। তারা ব্যাপক  মারধোর শুরু করে। মারধোরের হাত থেকে মহিলারাও রেহাই পান নি। তৃণমূলের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে নগর সভাপতির এভাবে তাঁদের উপরে হামলা চালনোর বিষয়টি নিয়ে দলের ওপর মহলে জানিয়েছেন।

পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ‘বিজেপির প্রচুর টাকা। সেই টাকা এখন ওদের দলের প্রার্থী ও কার্যকর্তাদের হাতে আসছে। ওই টাকার বখরা নিয়ে ওদের দুই গোষ্ঠীর লড়াই শুরু হয়ে গেছে। ওদের আরও আনেক কীর্তি রাজ্যবাসী দেখবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপির নেতা কর্মীরা টাকার বখরা নিয়ে লড়ছে। আর তৃণমূল বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে বাংলার মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে লড়ছে। এটাই বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ফারাক।’

বিজেপি বর্ধমান সদর সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক শ্যামল রায় জানিয়েছেন, বাংলায় তাঁদের দল এখন বড় হয়েছে। দলে লোকের সমাগম বাড়ায় মতবিরোধ বাকবিতন্ডা হচ্ছে। সোমবার দলের কেউ কারও গায়ে হাত দেয়নি। তৃণমৃল মিথ্যা অপপ্রচার করছে। তৃণমূল দলেই সিন্ডিকেটের টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে মারপিট হয়। বিজেপিতে এসব কালচার নেই।