যুব তৃণমূল ও এসইউসির সংঘর্ষে মৃত ২

297
প্রতীকী ছবি

ক্যানিং: যুব তৃণমূল ও এসইউসির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার নবগঠিত বারুইপুর পুলিশ জেলার অধীন কুলতলির নগেন আবাদ এলাকা। এই সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। সংঘর্ষ চলাকালীন ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সামাল দিতে সেখানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে নামানো হয়েছে র‍্যাফও।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া দু’পক্ষের ওই সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে এসইউসির সুদাম ঠিকাদার ও তৃণমূল যুব কংগ্রেসের অশ্বিনী মান্নার। যুব তৃণমূলের ভোলানাথ গিরি সহ এসইউসির বেশকিছু কর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, গত দু’দিন যাবত ক্ষতিগ্রস্ত যেসব মানুষেরা রাজ্য সরকারের ঘোষিত ক্ষতিপূরণ থেকে বিশেষভাবে বঞ্চিত হয়েছেন তাঁরা স্থানীয় পঞ্চায়েত ও বিডিও দপ্তরে লাগাতার জোরালো বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গতকাল রাতে ওই বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায় একদল তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক। সেখানে বেশকিছু এসইউসি সমর্থকদের বাড়ি ও দোকানে হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এসইউসি কর্মীদের অভিযোগ, ওই সংঘর্ষ চলাকালীন তাঁদের বহু কর্মী ও সমর্থকের বাড়িতে যেমন ভাঙচুর চালানো হয় তেমনি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই সংঘর্ষের মধ্যে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কর্মীরা সুদাম টিকাদার নামে তাঁদের দলের এক কর্মীকে খুন করে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়। এরপরেই তাঁরাও পাল্টা মারধর শুরু করলে অশ্বিনী মান্না নামে এক তৃণমূল যুব কংগ্রেস কর্মী মারা যান।

এদিকে, পুলিশের তরফে জানানো হয়, সেখানে একটি রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছিল। আর সেই রাস্তার কাজে নিযুক্ত কর্মীরা রাস্তার ধারে ত্রিপল খাটিয়ে কয়েকটি ছাউনি তৈরি করে তাতে রাতে থাকছিলেন। এবার কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার দরুণ সেখানে এসইউসি ও যুব তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ওই ছাউনি ত্রিপলগুলি কারা নেবে তা নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। আর সেই সংঘর্ষের জেরেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন প্রায় ১০ জন। আহতদের মধ্যে যুব তৃণমূল সমর্থক ভোলানাথ গিরির অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অপরদিকে, গতরাতের ওই ঘটনার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সভাপতি শওকত মোল্লা জানান, সুদাম নামে যে এসইউসি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে তাঁকে খুন করা হয়নি তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উল্টে ওই ঘটনার জন্য এসইউসিকেই দায়ী করেন।