চাঁদা নিয়ে দু’পক্ষের মারপিটে জখম ৩, গ্রেপ্তার ৬

0

বর্ধমান: চাঁদার অর্থ নিয়ে মারপিটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু’পক্ষের ছয় জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শুক্রবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা হল ডালিম শেখ, শেখ নুরুল ইসলাম, সলমান মিয়াঁ, সইফুল শেখ, সুরোজ শেখ ও শেখ নাজমুল ইসলাম। ধৃতদের বাড়ি জেলার গুসকরা পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তুড়িপাড়া ও বাগান পাড়ায়। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ শনিবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করে। ধৃতদের বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গুসকরা পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাগান পাড়াতে কুড়িঘর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন বসবাস করেন। এখানকার বাসিন্দাদের নিজস্ব কবরস্থান নেই। তাই কবরস্থানের জন্য একটি জায়গা কেনার জন্য তাঁরা পাড়াগত ভাবে চাঁদা তোলা শুরু করেন। বাসিন্দারা জমি কেনার চাঁদার টাকা জমা দিচ্ছিলেন স্থানীয় মুজিবর শেখের কাছে। এলাকার বাসিন্দা ডালিম শেখের বোন তাঁর এবং তাঁর দাদা ডালিম শেখের চাঁদা মুজিবর শেখের বাড়িতে গিয়ে জমা দিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু ডালিম শেখ চাঁদা দেয়নি বলে পরে মুজিবর শেখ অস্বীকার করেন। তা নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি বাধে। মারপিটের পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এলাকায় পৌঁছে উত্তেজনা সামাল দেয়। তখনকার মত সবকিছু মিটে গেলেও রাতে ফের অশান্তি বাধে। অভিযোগ, গুসকরা পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জল সরবরাহের কাজে যুক্ত ডালিম শেখের ভাই সাবির শেখকে সেখান থেকে বাগানপাড়ায় তুলে নিয়ে গিয়ে মুজিবর শেখের লোকজন মারধর করে। এই ঘটনা জানার পর ডালিম শেখের লোকজন সেখানে পৌঁছোলে দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট বেধে যায়।

- Advertisement -

মারপিটের সময়ে বঁটির আঘাতে সাবির শেখের ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল কেটে পড়ে যায়। মারধরে মুজিবর শেখ ও সাহিদ শেখ নামে দুই ব্যক্তিও আহত হন। তিনজনকেই উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনা নিয়ে দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দু’পক্ষের ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে।