দুয়ারে সরকার কর্মসূচীর ক্যাম্পের দখলদারি নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ

543

বর্ধমান: ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচীর ক্যাম্পের দখলদারি নিয়েও এবার শাসক দলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ বাঁধে। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে শহর বর্ধমানের লোকো কলোনীতে। সংঘর্ষে দুই গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। বর্ধমান থানার পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সরকারী সহায়তা প্রদান ক্যাম্পে শাসক দলের লোকজনের এইভাবে গোষ্ঠী সংঘর্ষে লিপ্ত হবার ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন বর্ধমানবাসী। বর্ধমানে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লোকো কলোনীর রেলওয়ে বিদ্যাপীঠ স্কুলে ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প বসেছে। সেখানেই ক্যাম্পের দখলদারি নিয়ে এদিন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক  খোকন দাসের অনুগামীদের সঙ্গে ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার মহম্মদ সেলিমের অনুগামীদের মধ্যে বিবাদ বাঁধে। পরে তা সংঘর্ষের চেহারা নেয়।

তৃণমূল নেতা খোকন দাসের অভিযোগ এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে তাঁর অনুগামী শিবু ঘোষকে মারধর করে জখম করা হয়েছে। খোকন বাবু দাবি করেন, শিবু ঘোষ তাঁর বৌদি ও স্ত্রীকে নিয়ে বিদ্যাপীঠ স্কুলে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য। ওই সময় মহম্মদ সেলিম তাঁর দলবল নিয়ে হঠাৎতই তাকে আক্রমণ করে। শিবু ঘোষকে প্রচণ্ড মারধোর করা হয়। প্রাণে বাঁচতে শিবু ঘোষ এলাকার একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেলিমের দলবল সেখানেও ঢুকে গিয়ে শিবুকে মারধর করে। খোকন দাস অভিযোগ করেছেন সদ্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া আইনুল হক, সেলিম ও মেহবুব রহমান মিলে বৃহস্পতিবার রাতেই ক্যাম্পে হামলার প্ররিকল্পনা কষেছিল।

- Advertisement -

এদিন তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়েও আইনুল ও সেলিমের দলবল  হামলা ভাঙচুর চালিয়েছে বলে খোকন দাস গোষ্ঠীর অভিযোগ। বর্ধমান পৌরসভার সবকটি ওয়ার্ড দীর্ঘদিন তৃণমূলের দখলে থাকলেও  ২০১৯ লোকসভা ভোটে বর্ধমান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস ১৭০০ ভোটে পরাজিত হয়। বর্ধমান পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপতি আইনুল হক ও তাঁর অনুগামী সেলিম সেই সময়ে সিপিএম পার্টি করতেন। সিপিএম থেকে বহিস্কৃত হবার পর আইনুল বিজেপিতে যোগ দেন। সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তারপর থেকে আইনুল হককে নিয়ে শহর বর্ধমানে তৃণমূলের কাজিয়া চরমে উঠেছে। মাত্রা ছাড়িয়েছে তৃণমূলের গোষ্ঠী দন্দ। শিবু ঘোষকে মারধোরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে বর্ধমান থানা ঘেরাও করা হুঁশিয়ারি দেন খোকন দাসের অনুগামীরা। এদিন সন্ধ্যায় খোকন দাসের নেতৃত্বে থানা ঘেরাও।

মহম্মদ সেলিমকে গ্রেপ্তারের বর্ধমান থানার সামনে বিক্ষোভ চলে। ঘণ্টা দেড়েক বিক্ষোভ চলার পর পুলিশী আশ্বাসে বিক্ষোভ ওঠে। খোকন দাসের তোলা সমস্ত অভিযোগ যদিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন, প্রাক্তন কাউন্সিলার মহম্মদ সেলিম। তিনি জানিয়েছেন ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে হাজির হয়ে শিবু ঘোষের নেতৃত্বে কয়েকজন দাদাগিরি করছিল। এলাকার বাসিন্দারা তাঁর প্রতিবাদ করেন। এই নিয়ে প্রথমে বাদানুবাদ হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের তাড়া করলে ছুটে পালাতে গিয়ে কেউ আহত হতে পারে। কেউ তাদের মারধর করেনি।  ওই জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও পার্টি অফিস নেই। একটা ঘরে শিবু ঘোষ দলবল নিয়ে মদ খায়। শিবু এলাকার বাসিন্দা নয়। সে বহিরাগত। যদিও শিবু ঘোষ অভিযোগ করেছেন, সেলিমের নেতৃত্বে একদল যুবক তাদের উপর হামলা চালিয়েছে।