পঞ্চায়েতে সঞ্চালক গঠন নিয়ে কাজিয়া তৃণমূলে

222

সামসী, ২ জানুয়ারিঃ রতুয়ার সামসী পঞ্চায়েতে সঞ্চালক গঠন ঘিরে তুমুল কাজিয়া তৃণমূলে কংগ্রেসের অন্দরে। গত বুধবার সামসী পঞ্চায়েতের উপসমিতি গঠন প্রশাসনের নির্দেশে স্থগিত হয়ে যায়।পরবর্তীতে নতুন তারিখ ঘোষণায় তরজা শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। উপসমিতি গঠন না হওয়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের রতুয়া-১ ব্লক সভাপতি ফজলুল হক ও দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ হেসামুদ্দিন, জেলা সহসভাপতি আবদুল হামিদ, সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রবণ কুমার দাস ৩০ ডিসেম্বর অর্থাৎ বুধবার সামসীতে এক সাংবাদিক সন্মেলন করে নিজেদের দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক সমর মুখার্জিকে দায়ী করেছিলেন। যদিও, বিধায়ক সমর মুখার্জি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

শনিবার সামসীতে পালটা সাংবাদিক সন্মেলন করে দলের ব্লক ও জেলা নেতৃত্বের উপর ক্ষোভ উগরে দিলেন অপসারিত পঞ্চায়েত সদস্য তথা চার সঞ্চালক নবকুমার মন্ডল, সঞ্চিতা সাহা মজুমদার, রুকসানা খাতুন ও কিসমোতারা বিবিরা। তিনি দলীয় নেতৃত্বকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা তৃণমূলের প্রতীকে জিতে দলের অপর সদস্য শ্রবণ কুমার দাসকে প্রধান পদে বসিয়েছিলাম। নভেম্বর মাস পর্যন্ত আমরা পঞ্চায়েতের সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করেছি। অথচ এখন প্রধান শ্রবণ কুমার দাস কংগ্রেসের বিরোধী নেত্রী ও বিজেপির সহযোগিতায় আমাদের অপসারণ করে, নতুন করে সঞ্চালক গড়তে চাইছেন। বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দলীয় নেতৃত্ব না দেখলে, জনমানসে এর খারাপ প্রভাব পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অপসারিত চার সঞ্চালক।

- Advertisement -

তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতের কুড়িটি আসনের ১২টি দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি ৮টি আসনের ৫টিতে কংগ্রেস ও ৩টিতে বিজেপি জয়লাভ করে। পঞ্চায়েত সমিতির তিনজন সদস্য তৃণমূলের হওয়ায় তারা ওই পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতির সদস্য।বিজেপির একজন সদস্য মারা যাওয়ায় তাঁদের সংখ্যা কমে ২ হয়েছে। অভিযোগ, সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান স্বজনপোষণ ও নিজের মর্জি মাফিক বোর্ড পরিচালনা করার জন্য কংগ্রেসের দলনেত্রী সহ বিজেপির দুই সদস্যের সহায়তায় বিডিওর কাছে তাঁর নিজের দলের চারজন সঞ্চালকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করে গত ২৩ শে নভেম্বর। যদিও, প্রধান শ্রবনকুমার দাস নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই অনাস্থা ডাকা হয়েছিল।

সেই মোতাবেক ডিসেম্বর মাসের ১৪ তারিখে পঞ্চায়েতে ছিল তলবি সভা। অভিযোগ, ওইদিন প্রিসাইডিং অফিসার নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ সকাল ১১টার সময় আসার কথা ছিল। কিন্তু, পঞ্চায়েতে এসে পৌঁছান বিকেল সাড়ে ৩টার পর। অর্থাৎ তলবি সভার শেষ সময় ছিল সাড়ে ৩টা। কিন্তু সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তলবি সভা শুরু হয় বিকেল ৪ টা নাগাদ। ১৪ ডিসেম্বর তলবি সভা দেরিতে শুরু হওয়ায় রতুয়া-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ফজলুল হক রতুয়া ব্লকের বিডিও সারোয়ার আলির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। রতুয়া-১ এর বিডিও সারোয়ার আলি বলেন, অফিস থেকে নিয়ম মেনে সময় মতোই বেরিয়েছিলেন প্রিসাইডিং অফিসার। রাস্তায় পথ অবরোধের কারণে, প্রিসাইডিং অফিসার পঞ্চায়েতে সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি। বিষয়টি মহকুমাশাসক এবং পুলিশকে জানানো হয়েছিল। তবে, ফজলুল সাহেবের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন বিডিও।