পড়াশোনা ছেড়ে ফুটপাথে সবজি বিক্রি নবমের পড়ুয়ার

115

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি : দরিদ্র অথচ মেধাবী, এমন অজস্র উদাহরণ আছে হলদিবাড়ি ব্লকের গ্রামগঞ্জে। যেখানে মানুষ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও করোনার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সমস্ত দরিদ্র পরিবারে এমন পড়ুয়াও আছে যাদের  কাছে দামি মোবাইল না থাকার জন্য অনলাইনে ক্লাস করতে পারছে না। এমনই এক দরিদ্র ঘরের পড়ুয়া হামিদার হক। বক্সিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে আঙ্গুলদেখা এলাকার বাসিন্দা। হামিদার বর্তমানে কমলাকান্ত হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। পরিবার বলতে বাবা-মা, দুই ভাই এবং এক বোন। বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রির জোগানদার। কার্যত লকডাউনের জেরে দীর্ঘদিন কর্মহীন। এমন একটি পরিবারের কাছে দামি মোবাইলে অনলাইনে ক্লাস করাটা খানিকটা বিলাসিতার মতো।

লকডাউন যেন সবকিছু স্তব্ধ করে দিয়েছে হামিদারের পরিবারে। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর অবস্থা শুরু হয়েছে। এরপরই জীবনে সংগ্রাম করে এগিয়ে চলার সংকল্প নেয় ছোট্ট হামিদার। সংসারের আর্থিক সংকট কাটাতে ও ছোট ভাইবোনদের মুখে খাবার তুলে দিতে লজ্জা উপেক্ষা করে স্কুলের পাশেই সবজির দোকান খুলে বসেছে ছোট হামিদার।

- Advertisement -

য়েখানে এই বয়সে পড়াশোনা, খেলাধুলা করে কাটানো উচিত, সেখানে ভোরবেলা ফুটপাথে দোকান খুলে সবজি বিক্রি করছে নবম শ্রেণির পড়ুয়া হামিদার। যেমনটা জানা গিয়েছে, দোকানে যা বিক্রি হয় তার লাভের অংশ দিয়ে চলছে তাদের সংসার ও পড়াশোনার খরচ। তার বাবার মতে, চেয়েছিলাম ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে অনেক বড় করব। কিন্তু সে স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যাবে। সংসারের যা অবস্থা, তাতে এই বয়সেই ওকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষক তথা সমাজসেবী আব্দুল জলিল সরকার বলেন, হামিদারের পড়াশোনা যাতে কোনওভাবেই বন্ধ না হয় সেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। এ ছাড়াও পড়াশোনার ক্ষেত্রে যা যা সাহায্যের দরকার তার ব্যবস্থা করব।