শান্ত বর্মন, জটেশ্বর :  ফালাকাটা ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকা শিসাবাড়ি সরুগাঁওয়ে একমাত্র উচ্চপ্রাথমিক স্কুলের ভবন তৈরির পর নয় বছরেও পঠনপাঠন চালু হয়নি। ফলে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা নদী পেরিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে পড়তে যেতে হচ্ছে খুদে পড়ুয়াদের। এলাকার একমাত্র উচ্চপ্রাথমিক স্কুলে পঠনপাঠন চালু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। দ্রুত তাঁরা স্কুলে পঠনপাঠন চালুর দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের অনুমোদন পাওয়ায় সর্বশিক্ষা মিশনের উদ্যোগে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা উত্তর মণ্ডলের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই উচ্চপ্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন তৈরি করা হয়। সেখানে উচ্চপ্রাথমিকস্তরে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন চালু করা হবে বলে সে সময়ে জানিয়েছিল শিক্ষা দপ্তর। ২০১০ সাল নাগাদ তৈরি হওয়া ওই ভবনগুলির মধ্যে জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের আলিনগর বিদ্যাপীঠ, বালিমনটারি বিদ্যালয়, দলমণি চা বাগানের দলমণি উচ্চপ্রাথমিক বিদ্যালয়, ধনীরামপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের শিসাবাড়ি সরুগাঁও জুনিয়ার হাইস্কুলের ভবন তৈরি হয়। কিন্তু তার একটিতেও গত নয় বছরে শিক্ষক নিয়োগ করে পঠনপাঠন চালু হয়নি। সরকারি তহবিল থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ভবনগুলি নির্মাণ করা হলেও তা ব্যবহার না হওয়ায় অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেখভালের অভাবে স্কুল ভবনগুলির টিনের চাল, দরজা, জানলা ভেঙে গিয়ে বেহাল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফালাকাটা ব্লকের দলগাঁও জঙ্গলঘেঁষা ওই এলাকার দুদিকে নদী ও চা বাগান রয়েছে। সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থাও প্রায় নেই। প্রাথমিকস্তরের পর পড়াশোনা করার মতো স্কুল না থাকায় প্রাথমিক উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের কলি তাতাসি নদী পেরিয়ে দশ কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে হয়। ফলে বর্ষাকালে এই এলাকায় অধিকাংশ পড়ুয়ার পক্ষে স্কুলে যাওয়া আর সম্ভব হয় না। ফলে শিসাবাড়ি সরুগাঁওয়ে ওই উচ্চপ্রাথমিক স্কুলটি কবে চালু হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকার পড়ুয়ারা।

স্থানীয় সমাজসেবী তথা শিক্ষানুরাগী আইনুল হক বলেন, শিসাবাড়ি সরুগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাশেই উচ্চপ্রাথমিক স্কুলের ভবন নির্মাণের হওয়ায় ভালো লেগেছিল। কিন্তু ভবন নির্মাণ সহ পরিকাঠামো তৈরির পরেও কেন স্কুলটি চালু করা হল না, বুঝতে পারি না। স্কুল যদি চালু করা না হয় তাহলে সরকারি তহবিল থেকে অনর্থক টাকা খরচ করার মানে কী? নাসিরুদ্দিন মিয়াঁ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এই এলাকায় উচ্চপ্রাথমিক স্কুল চালু করা হলে এলাকার ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা হবে। ধনীরামপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিতাই দাস বলেন, সেখানে স্কুলটিতে পঠনপাঠন চালু করার জন্য বিডিও, জেলাপরিষদ সভাধিপতির দ্বারস্থ হয়েছি। জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) তপন সিনহার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো তথ্য জানাতে রাজি হননি।