রাজ্যে আইটিআই, পলিটেকনিকে শুরু হচ্ছে ক্লাস

157

সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি : করোনাপর্ব কাটিয়ে অবশেষে রাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে ১৫ দিনের মধ্যেই রাজ্যের সমস্ত পলিটেকনিক কলেজ এবং আইটিআই খুলতে পারে। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সবুজ সংকেত দিয়েছে রাজ্য। চলতি মাসের শেষে বা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের অধীন পলিটেকনিক কলেজ ও আইটিআইগুলি খুলে দেওয়ার নির্দেশিকা প্রকাশ হতে পারে।

করোনা পরিস্থিতিতে দুবছর ধরে প্র‌্যাকটিকাল ক্লাস না হওয়ায় পলিটেকনিক ও আইটিআই পড়ুয়াদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। পড়ুয়াদের যাতে আর ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, সেই কারণে দ্রুত কলেজ ও প্রতিষ্ঠানগুলি খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে চাইছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর বলেন, পড়ুয়াদের প্র‌্যাকটিকাল ক্লাসগুলি নেওয়ার জন্যই পলিটেকনিক কলেজ ও আইটিআই খুলে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই অর্ডার হয়ে যাবে। আলাদা দিনে ভাগ করে পড়ুয়াদের প্র‌্যাকটিকাল ক্লাসগুলি হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পড়ুয়াদের গ্রুপ করে প্রতিদিন তিনটি শিফটে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

- Advertisement -

এমনিতে পলিটেকনিক ও আইটিআই পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে থিওরিটিকাল পড়াশোনার তুলনায় হাতেকলমে বিষয়টি শেখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে দুবছর ধরে পড়ুয়াদের হাতেকলমে শিক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। যেটুকু পড়াশোনা তা অনলাইনের মাধ্যমে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি খুলে দেওয়ার দাবি উঠছিল। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কারিগরি শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রতিটি ক্লাস এক থেকে দুই ঘণ্টা করে হত। করোনা পরিস্থিতির আগে প্রত্যেক সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন প্র‌্যাকটিকাল ক্লাস হত। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে সতর্কভাবে পা ফেলতে চাইছে প্রতিষ্ঠানগুলিও।

পলিটেকনিক কলেজ ও আইটিআই খুলে দেওয়ার ইঙ্গিতে খুশি পড়ুয়ারাও। পাশাপাশি, তাঁদের মধ্যে ধন্দ কাটছে না।  কেননা দুই বছর হাতেকলমে কোনও শিক্ষা না পাওয়ায় চাকরি আদৌ মিলবে কি না, সেই চিন্তা তাঁদের রাতের ঘুম কেড়েছে। তাঁদের বক্তব্য, সিভিল, ইলেক্ট্রিক্যাল নিয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্র‌্যাকটিকালই আসল। অনলাইনে ক্লাস করে সেইসব শেখা যায় না। পড়াশোনার বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।