ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : চার ক্লাসের স্কুলে ছাত্রছাত্রী মাত্র ৭০ জন। আর হবে নাই বা কেন? পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন চাঁদমণি হিন্দি জুনিয়ার হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর কোথায় যাবে ছাত্রছাত্রীরা? অন্য স্কুলে যেতে হলে তার জন্যই ঝক্কি পোহাতে হয় অনেক। শুধু কী তাই, চাঁদমণি বাগানের কাছে থাকা ওই স্কুলে প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে বসে দুষ্কৃতীদের আড্ডা। ছাত্রছাত্রীদের জন্য যে মিড-ডে মিল তৈরি হয়, সেই ঘরের চাল, মিড-ডে মিলের বাসনপত্র পর্যন্ত চুরি হয়ে গিয়েছে। রাঁধুনি এখন প্রতিদিন তাঁর  বাড়ির বাসনপত্র নিয়ে এসে ছাত্রছাত্রীদের জন্য রান্না করেন। স্কুলে ভোটের আগে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও এখন সেখানে সেই সংযোগ না থাকার কারণে প্রচণ্ড গরমে টিনের চালের ঘরেই ক্লাস করতে বাধ্য হয় ছাত্রছাত্রীরা। অনেক সময় গাছের তলায় টেবিল, চেয়ার পেতে ক্লাস করান দিদিমণিরা। স্কুলের শৌচাগারের যে হাল, তা ব্যবহার করতে পারে না কেউই। প্রয়োজন হলে দূরে কোনো বাড়িতে শৌচালয় ব্যবহার করতে যেতে হয় দিদিমণি, ছাত্রছাত্রীদের। সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া ওই স্কুলের এমন ভয়ানক অবস্থা য়ে সেখানে ছেলেমেয়েদের ভরতি করতে চান না অনেক অভিভাবক।

স্কুলের টিচার-ইন-চার্জ আশা সোরেং বলেন, স্কুলে সমস্যা অনেক রয়েছে। বিশেষ করে দুষ্কৃতীর তাণ্ডব। অফিস ঘরে কোনো কিছু রাখা য়ায় না। খাতাপত্র, ফাইল, বইপত্র সব চুরি হয়ে যায়। স্কুলের পর এই এলাকা দুষ্কৃতীদের দখলে চলে যায়। ছাত্রীদের শৌচালয়ে তালা লাগিয়ে রাখা হলেও সেই তালা ভেঙে তা নষ্ট করা হয়। মিড-ডে মিলের ঘরে টিন চুরি হয়ে য়ায় মাঝেমধ্যেই। তবে আমরা প্রশাসনিক স্তরে পুরো বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করছি এর একটা সমাধান হবে। পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রফুল্ল বর্মন বলেন, স্কুলের সমস্যার কথা আমি জানি। কিন্তু স্কুলের থেকে কোনোদিনই আমাদের লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে আমি বিষয়টি  এসআই অফিস, ডিআই অফিসকেও জানিয়েছি। কিন্ত ওই স্কুলে জমি সংক্রান্ত কিছু সমস্যা থাকার কারণে সরকারি ফান্ড এসে পড়ে থাকলেও কিছু করা য়াচ্ছে না বলে শুনেছি। বিদ্যালয় পরিদর্শক বালিকা গোলে বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। আমাকে জানানো হয়নি। তবে পুরো বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখব।