ভবন তৈরির ১০ বছরেও ক্লাস চালু হয়নি

বড়দিঘি : প্রায় ১০ বছর আগে তৈরি হয়েছে জুনিয়ার হাইস্কুলের ভবন। কিন্তু এখনও অবধি শুরু হয়নি পঠনপাঠন। এমনই অবস্থা মাল ব্লকের তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েতের থাপাবস্তিতে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন প্রশাসনের কেউই। এ নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েতের থাপাবস্তি অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া একটি এলাকা। একদিকে চলছে কুমলাই নদীর ভাঙন, অন্যদিকে রাত হলেই হাতি এবং চিতাবাঘের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন গ্রামবাসী। প্রায় হাজারের উপর গ্রামবাসী এখানে বসবাস করেন যাঁদের কারও আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও উচ্চপ্রাথমিক বা মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়তে হলে পড়ুয়াদের কুমলাই নদী পার হয়ে ৩ কিমি দূরে ওমের আলি বিদ্যালয়ে অথবা মালবাজার কিংবা বড়দিঘিতে যেতে হয়। আর এলাকার ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে ২০০৮-০৯ আর্থিক বর্ষে সর্বশিক্ষা মিশনের প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা ব্যয়ে থাপাবস্তিতেই জুনিয়ার হাইস্কুল চালুর উদ্দেশ্যে এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে ৯ বছর অতিক্রান্ত, কুমলাই নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে, নদীর গ্রাসে অনেক জমিও চলে গিয়েছে, কিন্তু নির্মিত ভবন থেকে কচিকাঁচাদের পড়াশোনার আওয়াজ শোনা যায়নি।

- Advertisement -

শিক্ষা দপ্তরের এই উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য নাদিরা আখতার পারভিন বলেন, থাপাবস্তি চিরটাকাল অন্ধকারেই পড়ে থাকল। ভবন নির্মাণ হওয়া সত্ত্বেও ক্লাস চালু হল না। কুমলাই নদীর উপর সেতু না থাকায় বর্ষার দিনে থাপাবস্তি যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, তেশিমলার বাকি অংশের সঙ্গে কার্যত যোগাযোগই থাকে না। পড়ুয়াদের লেখাপড়াও লাটে ওঠে। জুনিয়ার হাইস্কুলটি চালু হলে আমাদের এলাকার ছেলেমেয়েরা ভীষণভাবেই উপকৃত হত। একই সুর গ্রামবাসী নুর ইসলাম, জিতিয়া ওরাওঁ, বুধুরাম ওরাওঁ, আব্দুল হক, জাহাঙ্গির আলম, আব্দুল রহমানদের কথায়। এ বিষয়ে তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মিনারা পারভিন বলেন, ভবন তৈরির প্রায় ১০ বছর পরেও ক্লাস কেন চালু হল না, তা নিয়ে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। মালের বিডিও বিমানচন্দ্র দাস বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।