বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মেডিকেল কলেজের আধিকারিককে ঘেরাও সাফাইকর্মীদের

265

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: চুক্তিভিত্তিক সাফাই কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি, সহ একাধিক দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করলেন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে। এদিন দুপুর থেকেই সাফাইকর্মীদের সুপারভাইজার ও অন্যান্য আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন সাফাই কর্মীরা।

এই বিষয়ে সাফাই কর্মীদের নেতা অমিত জমাদার বলেন, ‘মোট ৮৪ জন সাফাই কর্মী মেডিকেল কলেজে সাফাইয়ের কাজে কর্মরত। এই করোনা আবহের মধ্যেও নিজের জীবনকে বিপন্ন করে সাফাইয়ের কাজে নিযুক্ত রয়েছে। মাত্র সাত হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়। নিজেদের সুরক্ষার জন্য স্যানিটাইজার, মাস্ক, পিপিই, গ্লাভস কিছুই দেওয়া হচ্ছে না। শুধু তাই নয় আইসোলেশনে যারা ২৪ ঘন্টা কাজ করছে তাদের খাবার দেওয়া হচ্ছে না নিজের সুরক্ষার জন্য কোন কিছুই দেওয়া হচ্ছে না।

- Advertisement -

করোনা আক্রান্ত রোগীদের আমাদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। আইসোলেশন বিভাগ থেকে করোনা আক্রান্তদের অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে দেওয়ার কাজও আমাদের করতে হচ্ছে। করোনায় কারো মৃত্যু হলে আমাদের দিয়েই সেই রোগীকে ঢোকানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে মর্গে। দীর্ঘ তিন মাস ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়েছিলাম কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি তাই এদিন আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।

এ প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, ‘সাফাই কর্মীরা স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে নয় একটি বেসরকারি সংস্থার অধীনে কর্মরত ফলে তারা বেতন বৃদ্ধি করবে কি করবেনা সবটাই নির্ভর করছে তাদের উপরে। কাজে যোগ দেওয়ার জন্য তাদেরকে বলা হয়েছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে যোগ না দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিরাপত্তারক্ষীদের কর্ণধার বিকি সাহানি বলেন,”সাফাই কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মাস্ক স্যানিটাইজার পিপিই সহ যাবতীয় সামগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের কাজে ফেরার অনুরোধ করা হয়েছে। যদি না পেরে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

উল্লেখ্য, রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৪ জন চুক্তিভিত্তিক হাউসস্টাফ রয়েছেন। মেডিসিন বিভাগ, সার্জিক্যাল বিভাগ, বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, শিশু বিভাগ, সিসিইউ, ডায়ালিসিস সহ প্রশাসনিক ভবনে কর্মরত রয়েছেন তারা। একেকজন জন কর্মীকে ১২ ঘন্টা করে কাজ করতে হয় হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে করে মাত্র সাত হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয় একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে বলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি।

শুধু সাফাইয়ের কাজেই নয় আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ধরে নিয়ে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানো তাদের সমস্ত কিছু পরিষ্কার করার দায়িত্বে রয়েছে এই সাফাই কর্মীরা। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির লোকেদের জীবনকে পরোয়া না করে। দিনের পর দিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করলেও বেতন বৃদ্ধি হয়নি। একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সে কারণেই আমরা আন্দোলনে নেমেছি। যদি বেতন বৃদ্ধি না হয় ৮৪ জন সাফাই কর্মী চাকরি ছেড়ে দেওয়ার মন স্থির করে ফেলেছি। আমাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে আধিকারিকরা। যা বলছে তাই করতে বাধ্য হচ্ছি তা না হলে চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে আর সহ্য নয় এবার আমরাই চাকরি ছেড়ে দেব তানাহলে বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। খবর লেখা পর্যন্ত আন্দোলন চলছে।