অতিরিক্ত ভাতা পাননি জলপাইগুড়ি পুরসভার সাফাইকর্মীরা

জলপাইগুড়ি : করোনা সংক্রমণের আবহে সকাল-বিকেল কাজ করার জন্য জলপাইগুড়ি পুরসভার সাফাই বিভাগের কর্মীদের অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন পুরপ্রধান মোহন বসু। গত এপ্রিল মাসে এই কথা ঘোষণার পর তিনমাস কেটে গেলেও, অতিরিক্ত একটাকাও দেওয়া হয়নি বলে সাফাই কর্মীদের অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে বর্তমান পুর প্রশাসকমণ্ডলীর দ্বারস্থ হলেও কাজের কাজ হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন পুরপ্রধান মোহন বসু বলেন, যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, টাকা না দিয়ে পুর প্রশাসকমণ্ডলী তাঁদের বঞ্চিত করছে। যদিও প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন পাপিয়া পালের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বৈঠক করেছেন। শীঘ্রই ওই টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।

করোনা সংক্রমণের আবহে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সাফাইকর্মীদের হাজিরা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি তাঁদের প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা কাজের নির্দেশ দিয়েছিল পুর কর্তৃপক্ষ। এপ্রিল মাসে তৎকালীন পুরপ্রধান শহরের ২৫টি ওয়ার্ডের সাফাই বিভাগের সুপারভাইজারদের সঙ্গে এই নিয়ে বৈঠক করেন। সেসময়ই সাফাইকর্মীদের অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়। সেই বৈঠকে তৎকালীন উপ পুরপ্রধান পাপিয়া পাল, চেয়ারম্যান পারিষদ সন্দীপ মাহাতো, সৈকত চট্টোপাধ্যায়, পৌলমী সাহা প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে প্রথম তিনজন বর্তমান প্রশাসকমণ্ডলীতে রয়েছেন। তারপরেও ওই টাকা বকেয়া রয়েছে বলে সাফাইকর্মীদের একাংশ জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সাফাইকর্মী দীপক বাসফোর বলেন, পুর কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে আমরা ৩০০ জন কর্মী কাজ করে যাচ্ছি। অথচ প্রাক্তন পুরপ্রধানের ঘোষণা অনুযায়ী বাড়তি টাকা দেওয়া হয়নি। সাফাইকর্মী রাজেন পাসোয়ান বলেন, টাকার জন্য বহুবার আমরা চেয়ারপার্সনকে বলেছি। কিন্তু ৩ মাসেও টাকা পাইনি।

- Advertisement -

সাফাইকর্মীদের বকেয়া টাকা ও নিরাপত্তার দাবিতে চেয়ারপার্সনকে চিঠি দিয়েছেন বিদায়ি কংগ্রেস কাউন্সিলার অম্লান মুন্সি। তিনি বলেন, বৈঠকে প্রশাসকমণ্ডলীর অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তারপরেও সাফাইকর্মীদের বাড়তি টাকা দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে মোহন বসু বলেন, এই পরিস্থিতিতেও লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে স্যানিটেশন বিভাগে সামগ্রী কেনা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাঁরা নাগরিক পরিষেবা দিচ্ছেন, সেই সাফাইকর্মীদের প্রাপ্য টাকা দেওয়া হচ্ছে না। করোনা মোকাবিলার ফান্ড থেকেই ওই টাকা মেটানো যেত। প্রশাসকমণ্ডলী আদতে ওই কর্মীদের বঞ্চিত করছে। যদিও পাপিয়া পাল বলেন, করোনার জেরে আমরা আর্থিক সংকটের মধ্যে ছিলাম। যে কারণে আমরা ওই টাকা দিতে পারিনি। তবে সাফাইকর্মীদের সুরক্ষার জন্য পুরসভার তরফে মাস্ক, গ্লাভস ইত্যাদি দেওয়া হয়েছে।