লাখ টাকার ঘড়িতে কাঁটা আটকে দুটোয়

112
Balurghat Municipality

পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট : যখন সময় থমকে দাঁড়ায়, নচিকেতা চক্রবর্তীর এই গান নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। বালুরঘাটে পুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার চৌমাথা মোড়ে গেলে দেখবেন সময় সেখানে একদম স্থির দাঁড়িয়ে আছে। অবাক হচ্ছেন? বহুদিন ধরে অকেজো হয়ে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে বালুরঘাটের বুকে বসানো লাখ টাকার টাওয়ার ক্লক। সংস্কারের অভাবে বর্তমানে ওই ঘড়ির স্তম্ভের ওপর ধুলোর পুরু আস্তরণ জমেছে। পুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার চৌমাথা মোড়ের মাঝে বসানো টাওয়ার ক্লকে এখন যেতে-আসতে দেখা যায়, সবসময় ২টো বেজে রয়েছে। যদিও বালুরঘাট পুরসভার বর্তমান প্রশাসক বিষয়টির ওপর নজর রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

লাখ টাকার ঘড়িতে কাঁটা আটকে দুটোয়| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaপ্রসঙ্গত, এক দশক আগে বালুরঘাট পুরসভায় বামফ্রন্টের বোর্ড থাকাকালীন পুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওই টাওয়ার ক্লক বসানো হয়েছিল। চেন্নাই থেকে বালুরঘাটে নিয়ে আসা ওই ঘড়ি বসাতে লাখ টাকার ওপর খরচ হয়েছিল। স্কুল-কলেজ, অফিস, আদালতে যাতায়াতকারী ও পথচলতি মানুষ সময় জানতে একনজরে চোখ বুলিয়ে নিতেন ঘড়িটির ওপর। এমনকি ওই এলাকার বিভিন্ন দোকানি থেকে শুরু করে ট্রাফিক পুলিশ ও মোটরকালী এলাকার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অটোচালকদের সময় জানার উপায় ছিল এই টাওয়ার ক্লক।

- Advertisement -

বালুরঘাট পুরসভায় বামফ্রন্টকে হারিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর এই ঘড়ি খারাপ হয়ে পড়ে। তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান এই ঘড়ি মেরামতের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু কয়েক বছর পর আবার ঘড়িটি অকেজো হয়ে পড়ে। এখন ভুল করে হলেও বালুরঘাটবাসীর চোখ আর এই ঘড়ির দিকে যায় না। শহরে সৌন্দর্যায়নের নামে ত্রিফলা পথবাতি, রাস্তার মাঝ বরাবর গাছ লাগানো থেকে শুরু করে মডেল স্থাপনে নজর দিলেও এই ঘড়িটি সারাই করে আর আগের অবস্থায় ফেরানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন বালুরঘাটবাসী।

এই বিষয়ে বালুরঘাট পুরসভার প্রাক্তন আরএসপি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুচেতা বিশ্বাস বলেন, পুরসভায় আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন এই উচ্চস্তম্ভ ঘড়ি স্থাপন করেছিলাম। চেন্নাই থেকে উন্নত প্রযুক্তির এই ঘড়িটি নিয়ে আসা হয়েছিল। স্থানীয় ঠিকাদারদের মাধ্যমে ঘড়িটি স্থাপন করার জন্য স্তম্ভ তৈরি করা হয়। বালুরঘাটবাসীর সুবিধার জন্য এই ঘড়িটি বসাতে এক লক্ষ টাকার ওপরে খরচ হয়েছিল। আমরা যতদিন পুরসভার দাযিত্বে ছিলাম নিয়মিত ঘড়িটির দেখভাল করছিলাম। কিন্তু আমরা ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর এই ঘড়িটির রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছিল না। তাই অকেজো হয়ে পড়েছে। বাড়ির ঘড়ি হলেও তাতে ব্যাটারি পালটাতে হয়। যত্ন নিতে হয়। পরবর্তী পুরসভা বোর্ড ও প্রশাসনের অসচেতনতার জন্য পুরসভার এমন একটি উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বালুরঘাট পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের চেয়ারম্যান রাজেন শীল বলেন, পুরসভায় বামফ্রন্ট ক্ষমতায় থাকাকালীন এই টাওয়ার ক্লক তৈরি করা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু কিছুদিন পরই তা নষ্ট হয়ে পড়ে। আমরা ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে ঘড়ি মেরামত করেছিলাম। তারপরে ঘড়িটি বহুদিন যাবৎ পরিষেবা দিয়েছে। কিন্তু পুরসভায় আমাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই ঘড়িটি সংস্কারের অভাবে ধুঁকছিল। বর্তমানে ঘড়িটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। পুরসভায় আমাদের বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাকমুহূর্তে এই ঘড়িটি পুরোপুরি সংস্কারের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে সেই কাজে হাত লাগানো সম্ভব হয়নি। পরে পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের ঘড়িটির দিকে নজর দেওয়া উচিত ছিল।

বালুরঘাটের বর্তমান পুর প্রশাসক হরিপদ সাহা বলেন, পুরসভায় বামফ্রন্টের বোর্ড থাকাকালীন এই উচ্চস্তম্ভ বিশিষ্ট ঘড়িটি নির্মাণ হওয়ার ফলে শহরের সৌন্দর্য বেড়েছিল। তৎকালীন বোর্ডের এই সৃষ্টি আমরা সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। তবে কয়েক বছর ধরে এই ঘড়িটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। কিছুদিন আগেই বালুরঘাট পুরসভায় নতুন প্রশাসকমণ্ডলী নিযুক্ত হয়েছে। বালুরঘাটের একাধিক বিষয়ে আমরা নজর দিয়ে তা সংস্কারের ব্যবস্থা করছি। ইতিমধ্যেই বালুরঘাটের বিভিন্ন জায়গায় বসানো মনীষীদের পূর্ণাবয়ব ও আবক্ষ মূর্তি সংস্কারের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। শহরের জঞ্জাল সমস্যা দূরীকরণেও ব্যবস্থা নিয়েছি। ইতিমধ্যেই এই ঘড়িটি সংস্কারের বিষয়ে প্রশাসকমণ্ডলীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বাসস্ট্যান্ড এলাকার টাওয়ার ক্লক দ্রুত সারাই করে সক্রিয় অবস্থায় ফেরানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বালুরঘাটের পূর্ত দপ্তরে কর্মরত এক কর্মী সুশান্ত কামেত  বলেন, এলাকার ওই ঘড়িটি অফিস টাইমে দ্রুততার সময় খুব কাজে আসত। বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী, অটো ও টোটোচালক থেকে শুরু করে বাসচালক ও পথচলতি মানুষ এই ঘড়িতে সময় দেখে উপকৃত হতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। ট্রাফিক সিগনালে দাঁড়িয়ে বন্ধ সময় দেখতে দৃষ্টিকটুও লাগে।