বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বইয়ের ব্যবসা বদলে গেল পান-বিড়ির দোকানে

317

রায়গঞ্জ: করোনা অতিমারির কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ছাত্র-ছাত্রীদের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনলাইন ক্লাস। বই, খাতা কোনও কিছুরই বিক্রি তেমন নেই। ফলে বিপাকে পড়েছে বই ও স্কুল স্টেশনারি বিক্রেতারা। রায়গঞ্জের এলআইসি মোড়ের এমনই বই ব্যবসায়ী বাপ্পা মোহন্ত। নার্সারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সমস্ত বই বিক্রি করতেন তিনি। শুধু বই নয়, খাতাপত্র, পেন সহ অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি হত তাঁর দোকানে। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় ধরে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিক্রি একেবারে নেই, তাই ব্যবসা পরিবর্তন করে পান, বিড়ি বিক্রি শুরু করেছেন। পুঁজি না থাকায় পান বিড়ির ব্যবসা শুরু করলেও দোকানে মালপত্র তুলতে পারছিলেন না। অন্যদিকে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালাতে একপ্রকার হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে। অবশেষে পান, বিড়ির দোকান দিয়ে স্বল্প উপার্জনেই চলছে সংসার।

বাপ্পাবাবু জানান, স্কুল-কলেজ কবে খুলবে কেউ জানে না। ফলে দোকানে বিক্রিবাট্টা একেবারে ছিল না। পুঁজি ভেঙ্গে এতদিন চললেও এখন আর চলছে না। শেষ পর্যন্ত পেটের দায়ে বইখাতার দোকান গুটিয়ে পান-বিড়ির দোকান দিয়েছি। দিনে ২০০-২৫০ টাকা উপার্জন হচ্ছে। তা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নুন ভাত জুটছে। রায়গঞ্জের দেবীনগর কালিবাড়ির বই ব্যবসায়ী কৌশিক পাল বলেন, ‘খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি। দোকান ভাড়া, ইলেকট্রিক বিল মেটাতে পারছি না। স্কুল- কলেজ না খুললে দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো।‘ রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়ী বলেন, ‘আমার মতো বাপ্পাবাবুও একজন রায়গঞ্জ শহরের পুস্তক ব্যবসায়ী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় খুব বিপদে পড়েছি আমরা। সরকারের তরফে কোনও সাহায্য না পেলে আগামীদিনে অনেককে এই পেশা ছেড়ে দিতে হবে।‘

- Advertisement -