বন্ধ কালচিনি-রায়মাটাং চা বাগান খুলছে, খুশির হাওয়া শ্রমিক মহলে

423

কালচিনি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ও রায়মাটাং চা বাগান খুলতে চলেছে। শনিবার শিলিগুড়ির দাগাপুরের শ্রমিক ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বাগান খোল নিয়ে শেষ পর্যন্ত রফাসূত্র বের হয়‌। মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সন্মতিতে রবিবার থেকে বাগান পুনরায় খুলছে বলে জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গের শ্রম কমিশনার মহম্মদ রিজওয়ান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের কিছু দাবি নিয়ে ৩ নভেম্বর বীরপাড়ায় ফের বৈঠক ডাকা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাগান খোলার সিদ্ধান্তে শিলমোহর পড়ায় খুশি দুই বাগানের প্রায় ৩২৫০ জন শ্রমিক পরিবার।

শ্রম দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুই বাগানের স্টাফ ও সাব স্টাফদের বকেয়া ২৬ দিনের বেতন মিটিয়ে দেবে মালিক পক্ষ। রবিবারেই শ্রমিকদের বকেয়া ১৬ দিনের বেতন দেওয়া হবে। এছাড়াও এবছরের পুজোর বোনাস ১২ শতাংশ হারে ১৭ অক্টোবর দুই বাগানের শ্রমিকদের দেওয়া হবে।

- Advertisement -

এর আগের বৈঠকে দুই বাগানের শ্রমিকরা দাবি তুলেছিলেন ভবিষ্যনিধি ও গ্ৰ্যাচুইটির বকেয়া টাকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে মালিক পক্ষকে। এদিনের বৈঠকেও ওই দাবিতে অনড় থাকেন শ্রমিকরা। মালিক পক্ষের তরফে ৩ অক্টোবর কালচিনি বাগানের জন্য ৪ লক্ষ টাকা ও রায়মাটাং বাগানের জন্য ৩ লক্ষ বকেয়া গ্ৰ্যাচুইটির টাকা জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে বাগান খোলা নিয়ে জটিলতা কেটে যায়। অতিরিক্ত শ্রম কমিশনার জানিয়েছেন, আগামী এপ্রিল মাস থেকে বকেয়া ভবিষ্যনিধির টাকা ইন্সটলমেন্টে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এরজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আবেদন করতে হবে মালিক পক্ষকে। এছাড়াও দু’বছরে মধ্যে সব বকেয়া মিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

গত বছর দিপাবলীর আগে ২৬ অক্টোবর বাগানের কিছু শ্রমিকের সঙ্গে মালিক পক্ষের বচসা হয়। অভিযোগ, সামান্য ঘটনার জেরে নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে বাগান বন্ধ করে দেয় মালিক পক্ষ। এরপর কয়েকবার ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে মালিক পক্ষ সাড়া না দেওয়ায় বাগান দুটি বন্ধ পড়ে থাকে। শ্রমিকদের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। যদিও সব তিক্ততা ভুলে নতুন করে বাগান খোলার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সিআইটিইউ-র আলিপুরদুয়ার জেলা সাধারণ সম্পাদক বিকাশ মাহালি বলেন, আমরা বাগান খোলার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে, অহেতুক বাগান বন্ধ না করার দাবি জানিয়েছি মালিক পক্ষকে। চা বাগান তৃণমূল কংগ্ৰেস মজদুর ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজকুমার ভুজেল বলেন, রাজ্য সরকারের তরফে ওই দুই বাগান খোলার বিষয়ে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত শ্রম কমিশনারকেও আমরা সাধুবাদ জানাই। মালিক পক্ষ সদার্থক মনোভাব নিয়ে বাগান পরিচালনা করলে আগামীদিনে সুষ্ঠ ভাবে বাগানের কাজ চলবে। এদিনের বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বাগানের অন্যতম মালিক প্রতিনিধি নবীন আগরওয়াল, মালিক পক্ষের সংগঠন ডিবিআইটি-এর সচিব সঞ্জয় বাগচি, বিজেপির শ্রমিক নেতা রাজেশ বারলা, তৃণমূলের শ্রমিক নেতা অপর্ন চামলিং উপস্থিত ছিলেন।