শুখা মরশুমে ধুঁকছে মুজনাই বাগান

308

মাদারিহাট : প্রায় এক বছর হতে চলল মুজনাই চা বাগান বন্ধ। অথচ আজ পর্যন্ত সরকার থেকে সমস্যা মেটাতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এদিকে যত সময় যাচ্ছে পরিস্থিতি তত খারাপ হচ্ছে। বাগানের শ্রমিকদের দাবি অবিলম্বে বাগান খোলার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা সরকারকে নিতে হবে। আর যতদিন পর্যন্ত না বাগান খুলছে ততদিন পর্যন্ত ফাওলই দিতে হবে। এদিকে সূত্রে জানা গেছে বাগানের কিছু শ্রমিক নিজেদের পেট চালাতে বাগান থেকে কাঁচা চা পাতা তুলে বিক্রি করছেন।এই ব্যাপারে কারো থেকে অনুমোদন তারা নেয়নি।

গতবছর ২৫ ডিসেম্বর মুজনাই চা বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছিল মালিকপক্ষ। শ্রম দপ্তর থেকে বহু আবেদন নিবেদন করেও মালিককে আলোচনার টেবিলে বসানো যায়নি।‌ এরপর শ্রমিকরা নিজেদের পরিবার বাঁচাতে অন্য বাগানে চা পাতা তোলার কাজ শুরু করেন। হাজিরা বাবদ তাদের দেওয়া হয় মাত্র ১৫০ টাকা। বাগানের স্বাস্থ্যকর্মী আশিস বিশ্বাস বলেন, ‘শুখা মরশুম শুরু হয়ে গিয়েছে। এই বাগানের প্রায় ৫০০ জন শ্রমিক অন্য বাগানে চা পাতা তোলার জন্য যেত। কিন্তু অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি থেকে সেই কাজ প্রায় বন্ধ। ফলে চরম অনটন চলছে শ্রমিকদের সংসারে। এদিকে নিয়মমতো ফাওলই পাওয়ার কথা । কিন্তু শ্রমিকরা তা পাচ্ছেন না।’ বাগানের শ্রমিক শান্তি মুন্ডা বলেন, ‘কেউ মুখ ফিরেও তাকায় না। নদীর পাথরও শেষ হয়ে যাচ্ছে।’ শ্রমিক সীতামনি মাঝি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কত নেতা বাগানে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচন শেষ, প্রতিশ্রুতিও মুজনাইয়ের জলে ধুয়ে চলে গিয়েছে।’

- Advertisement -

সূত্রের খবর, মুজনাই চা বাগানের শ্রমিকদের একাংশ বাধ্য হয়ে কাঁচা চা পাতা তুলে বিক্রি করছেন। ১০ টাকা কিলো দরে এই পাতা এক ব্যক্তি কিনে নিচ্ছেন। কোনো কমিটি গঠন ছাড়াই নিজেরা জঙ্গল পরিষ্কার করে পাতা তুলছেন। মুজনাই চা বাগান থেকে পঞ্চায়েতে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছেন চিঙ্কু ওরাওঁ । তিনি বলেন, ‘বাগান বন্ধ এক বছর হয়ে গেল। পরিচর্যার অভাবে জঙ্গলে ঢেকে গেছে বাগান। অন্য বাগানেও কাজ শেষের দিকে। নিজেদের জীবন বাঁচাতে বিকল্প আর কোনো পথ নেই। সেইজন্য জঙ্গল পরিষ্কার করে ছিটেফোঁটা কাঁচা পাতা তুলে বিক্রি করছেন শ্রমিকরা। সারাদিনে আট থেকে দশ কিলোগ্রাম এখন তুলতে পারছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় আর পরিচর্যা না করায় জঙ্গলে ছেয়ে গিয়েছে বাগান। পাতা নেই বললেই চলে। এদিকে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ।’

বীরপাড়ার অতিরিক্ত লেবার কমিশনার নীল ছেত্রী বলেন, ‘বাগান খোলার কোনো খবর নেই। তবে ফাওলই দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

তথ্য : নীহাররঞ্জন ঘোষ