শিলিগুড়ি, ১৩ এপ্রিলঃ দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল-কংগ্রেস প্রার্থী অমর সিং রাইয়ের সমর্থনে শিলিগুড়িতে নির্বাচনি জনসভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে এই সভা হচ্ছে। এদিন সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন-

ধর্মের নামে মানবিকতা, ধর্মের নামে যুদ্ধ নয়।

তবে ইদানীং ধর্মের নামে সমাজকে কলঙ্কিত করতে নতুন ধর্মের আমদানি করছে কেউ কেউ। এই ধরনের শক্তিকে ফ্যাসিবাদী শক্তি বলে।

বিজেপি ৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। শুধু ধর্ম বেচে খাবেন না। ধর্ম নিয়ে আমাদের রাজনীতির প্রয়োজন পড়ে না।

কেউ গদা নিয়ে, কেউ তরোয়াল নিয়ে রাস্তায় ভোট চাইতে বেরিয়েছে। মনে রাখবেন এটা বাংলা। বাংলায় এসব করে ভোট হয় না।

বাঘাযতীন পার্কে আমি আগেও মিটিং করেছি। সন্ধ্যাবেলায় মিটিং হলে ভালো হত। কিন্তু আজ ফিরতে হবে। পয়লা বৈশাখের আগে পুজো দিতে চাই। তাই যাচ্ছি। কাল কালীঘাটে পুজো দিয়ে আবার পয়লা বৈশাখের দিন ফিরে আসব। মুর্শিদাবাদ, মালদা থেকে আগামী ১০ দিন প্রচার করব।

শিলিগুড়িকে কি দিইনি, সিপিএম নেতাদের জিজ্ঞাসা করুন, মাঝেমাঝে আমার দুঃখ হয়। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে রেলমন্ত্রী থাকাকালিন রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড করে দিয়েছি শিলিগুড়িতে।

দার্জিলিং টয়ট্রেন পরিসেবা আমি সংস্কার করেছিলাম। বেঙ্গল সাফারি পার্ক থেকে শুরু করে গজলডোবায় ভোরের আলো, উত্তরকন্যা সব আমরা করে দিয়েছি। দার্জিলিং মোড়ে ফ্লাইওভার কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করছে, আমরা জমি দিয়েছি। বাগডোগরায় এয়ারপোর্ট বাড়াতে আমরা জমি দিয়েছি।

সারা ভারতে ২ কোটি লোক চাকরি হারিয়েছে। একমাত্র বাংলায় ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান হয়েছে।

আমরা চিরকাল থাকব না। আমি এখন তরুণ প্রজন্মকে তোলার কাজ করছি। আমরা হারিয়ে গেলে তারা যেন থাকে। তরুণ প্রজন্ম আগামীতে দেশ সামলাবে। উত্কর্ষ বাংলা তরুণ প্রজন্মকে উত্সর্গ করলাম।

বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম কিছু করতে পারবে না। বিহারে লালুজি আগে যাক। উত্তরপ্রদেশে মায়াবতী, অখিলেশ আগে যাক, আঞ্চলিক দলগুলি আগে যাক। কেন কংগ্রেসকে ভোট দেবেন? আমি উত্তরপ্রদেশ, বিহার, রাজস্থান থেকে দাঁড়াতে পারতাম কিন্তু দাঁড়াইনি। বাংলায় আমার মূল লড়াই। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়ব। দিল্লিতে সরকার তৃণমূল বানাবে সবার সঙ্গে মিশে।

মোদি যেদিন থেকে গদিতে বসেছে সেদিন থেকে অত্যাচার করছে। কখনও এজেন্সি, কখনও সেন্ট্রাল ফোর্স দিয়ে হেনস্তা করে। যদিও আমি মনে করি তাঁরা আমার লোক। সংখ্যালঘু, তপশিলি জাতি উপজাতির উপর অত্যাচার হচ্ছে।

মোদি বাবু হঠাত্ৎ হিটলার হয়ে গেলেন। যা মনে হবে তাই করবেন। এয়ারইন্ডিয়ায় ননভেজ বন্ধ করে দিয়েছে। উনি যা খাবেন তাই খেতে হবে।

আরএসএসের পাণ্ডা, হাতে নিয়েছে ডাণ্ডা, হয়েছে গুণ্ডা, দেশকে করছে ধান্দা।

এরা রামকৃষ্ণ মিশনকেও পাত্তা দেয় না, বিজেপি বলছে এখানে দুর্গাপুজো বন্ধ করে দিয়েছে, বন্ধ হয়েছে কী? উনি কী লক্ষ্মীপুজোর মন্ত্র জানেন?

ওপরে গেরুয়া, ভেতরে ঝাড়ুয়া, আমি বলিনি, পাবলিক বলছে। আগেরদিন ৯১ টা আসনে নির্বাচনে ১০ টাও আসন পাবে না। সব গোল্লা পাবে।

১০০ পেরোতা পারলেতো সরকার গড়বে। একটা করে ভোট মোদি তাড়াবার জোট।

সকাল থেকে রাত ভাবছে আমাকে কি করে খোঁচাবে। বাড়ির ভাই-বোনদের সঙ্গে কথা বলি সেটাও ট্যাপ করে। সাংবাদিকদের সবসময় ট্যাপ করা। সব গণতান্ত্রিক সংস্থাকে কিনে নিয়েছে ভয় দেখিয়ে।

সিপিএম আমার উপর বোমা, গুলি চালিয়েছে। সিপিএমকে পরোয়া করিনি তো তোমাদের কি করব। সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি রামধনু রংয়ের খেলা চলছে। যাঁরা সিপিএম করে তাঁরা দুপুরে বিজেপি রাতে কংগ্রেস করে। বামপন্থীদের আবেদন করব কেন দেবেন বিজেপিকে ভোট? কেন এখানে বামেদের ভোট দেবেন? সিপিএম কর্মীরা প্লীজ সিপিএমকে ভোট দেবেন না। আমরা চাই বাংলা থেকে ৪২ টা সিট নিয়ে গিয়ে দিল্লিতে সরকার গড়ব।

বাংলায় এনআরসি-র এন হবে না তো আরসি কোথা থেকে আসবে। বাংলার সংস্কৃতি এই গুণ্ডারা জানে না। এনআরসি বাংলায় হবে না।

চৌকিদার হটাও দেশ বাঁচাও

মোদিজি জিতলে আধার কার্ডের মতো সব অন্ধকার হয়ে যাবে। মিথ্যে কথা বলছে। ফেক নিউজ করে ফেসবুকে। বাংলাদেশেরে ঘটনা বাংলায় হয়েছে বলে চালিয়েছে।

খালি দাঙ্গা করেই নেতা হওয়া যায় না।

গোর্খাল্যান্ডের নামে পাহাড়ের ভোট নিয়ে পালিয়ে গেছে। আলুওয়ালিয়া দার্জিলিং থেকে পালিয়ে এখন বর্ধমানে গেছে। দার্জিলিং থেকে দিল্লি আমরা দখল করব। বাকিরা ভোটের সময় বসন্তের কোকিলের মতো বেরিয়ে পড়ে। পাহাড়ের সব ভোট অমর রাই পাবেন। চোপড়া, শিলিগুড়ি সব জায়গায় আমরা ভোট পাবো।

স্বাস্থ্য সাথীতে স্মার্ট কার্ড পাবেন, ৫ লক্ষ টাকা করে চিকিত্সার জন্য পাবেন।

আমি জানি শিলিগুড়িতে ট্রাফিক সমস্যা রয়েছে। ইলেকশন শেষ হলে আমি বসব, কথা বলব। সিপিএম শুধু চিঠি লেখে কোনো কাজ করে না। কাজ করলে যানযট সমস্যা মিটে যেত।

সংবাদদাতাঃ রাহুল মজুমদার