করোনা ভ্যাকসিনের আলাদা দাম নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতা’র

63

আসানসোল: কেন করোনা ভ্যাকসিনের দাম আলাদা আলাদা হবে? ‘এক দেশ, এক জাতি’র কথা বলা হচ্ছে। অথচ ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে পৃথক দাম। বৃহস্পতিবার দুপুরের আসানসোলের সেনরেল স্টেডিয়ামে আসানসোল উত্তর ও বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রের দুই প্রার্থীর সমর্থনে এসে জনসভায় করোনা ভ্যাকসিনের দাম প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার যখন ভ্যাকসিন কিনবে তখন তার দাম ১৫০ টাকা। রাজ্য সরকার কিনলে তার দাম ৪০০টাকা। আবার সেই ভ্যাকসিন বেসরকারি সংস্থা কিনলে তার দাম ৬০০ টাকা। তিনি বলেন, ‘আমি আজও চিঠি লিখেছি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। জানতে চেয়েছি একই ভ্যাকসিনের দাম আলাদা হবে কেন। এতে গরিব মানুষ তো কাঁদতে কাঁদতে মরবে। সবার জন্য ভ্যাকসিনের একটাই দাম হওয়া উচিৎ। আমরা প্রথমেই বলেছিলাম নিজেরাই ভ্যাকসিন কিনে রাজ্যের মানুষকে দেব। সেটাও কেন্দ্র প্রথমে করতে দেয়নি। গত ছয় মাস ধরে করোনা নিয়ে কোনও পরিকল্পনা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। তারজন্য আজ এই অবস্থা। বার বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভোটের প্রচারে বাংলায় আসছেন, বাংলাকে দখল করবে বলে। বাংলার সম্পদ লুট করব, এসব নিয়ে ভাবছেন ও কথা বলছেন। ভ্যাকসিন ও অক্সিজেনের দেশজুড়ে যে এত অভাব আছে, তা নিয়ে যে পরিকল্পনা করার কথা ছিল সেইসব কিছুই করেননি। এমনকি আমাদেরও জানাননি যে এমন সংকট হতে পারে।’

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি আসানসোলে আসার পথে শুনলাম কেন্দ্রীয় বাহিনী আবার অশোকনগরে গুলি চালিয়েছে। এখানে আসার আগে মালদায় আমার সভা ছিল। সেখানে একটু বেশি লোকজন হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ আমি দেখলাম কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠি চালাচ্ছে। আমি বারণ করলাম। বললাম লাঠি চালাবেন না। লাঠি চালানো বন্ধ করুন। ওঁরা ওঁদের খুশিমতো গুলি চালাচ্ছে। ওঁদের খুশিমতো লাঠি চালাচ্ছে। এভাবেই এর আগে এরা পাঁচজনকে গুলি করে মেরেছে। গুলি কাণ্ডে আমরা এফআইআর করব। তদন্ত করা হচ্ছে। যাঁরা গুলি চালানোর নির্দেশ দিচ্ছে বা গুলি চালিয়েছে তাঁদের শাস্তি হবেই। আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আবারও অনুরোধ করব আপনারা ভোটে যাতে শান্তি বজায় রেখে মানুষ ভোট দিতে পারে সেই কাজটুকু করুন। নিজেদের রাজধর্ম পালন করুন। জোর করে কোথাও এমন কিছু করবেন না যাতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে যাওয়া মানুষের অসুবিধা হয়।’

- Advertisement -

একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ওঁরা কয়েকটা সিটে রিগিং করানোর চেষ্টা করছে। আর নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কয়েকটা কেন্দ্র জেতার কথা ভাবছে ওঁরা। এটা চার-পাঁচটা কেন্দ্রে বড়জোর হতে পারে। সব ডিএম ও এসপিকে বদল করে দিয়েছে। এইভাবে ভোটে জেতা যায় না। ওদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী বা নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ওঁরা কেন, ওঁদের ঠাকুরদাদাও বাংলা দখল করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য রাজ্যের নেতারা রোজ আমাদের রাজ্যে আসছেন আর করোনা ছড়িয়ে যাচ্ছেন। ওঁদের কারণেই এই রাজ্যে করোনা বাড়ছে। যাঁরা বিজেপির হয়ে টাকা নিয়ে অত্যাচার করছে, দালালি করছে, তাদের প্রতি আমরা বিশেষ নজর রেখেছি। গ্যাসের দাম এক হাজার টাকা। কোথায় গেল উজালার বিনা পয়সায় গ্যাস? আমি বিনা পয়সায় আপনাদের চাল দিচ্ছি। আর সেই চাল হাজার টাকা দামের গ্যাসে ফুঁটছে। এবার বিজেপিকে ফুটিয়ে দিন। দাবি তুলুন বিনা পয়সায় গ্যাস চাই।’