কলকাতা, ২৮ নভেম্বরঃ মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী পদে উদ্ধব ঠাকরের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির জন্য সেখানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না তিনি। জানা গিয়েছে, তাঁর প্রতিনিধি থাকবে সেখানে। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন শিবসেনা সুপ্রিমো উদ্ধব ঠাকরে। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দেশের তাবড় রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সনিয়া গান্ধি এবং রাহুল গান্ধিকে আমন্ত্রণ জানাতে দিল্লিতে গিয়েছিলেন আদিত্য ঠাকরে। জানা গিয়েছে, তাঁদেরও থাকার সম্ভাবনা নেই।

শপথের আগে বুধবার এনসিপি-র বর্ষীয়ান নেতা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে দপ্তর বন্টন নিয়ে কথা হয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা আহমেদ প্যাটেল এবং মল্লিকার্জুন খারগের।

মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও বিজেপি জোট করে লড়লেও মুখ্যমন্ত্রীত্বের দাবি নিয়ে শুরু হয়েছিল বিরোধ। ৫০-৫০ শর্তে জোট হয়েছিল বলে দাবি করে শিবসেনা। তাই দু’দলের মুখ্যমন্ত্রী আড়াই বছর ধরে ক্ষমতায় থাকবে। সেটা লিখিত দিতে হবে বিজেপিকে। কিন্তু বিজেপি তা মানতে রাজি হয়নি। এরপরই এনসিপি-কংগ্রেসকে নিয়ে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে শিবসেনা। কিন্তু পরদিনই এনসিপি থেকে অজিত পাওয়ারকে ভাঙিয়ে শপথ নেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। কিন্তু, শপথগ্রহণের তিন দিনের মাথায় ফড়নবিশ ও অজিত পাওয়ার দু’জনেই ইস্তফা দেন। ফলে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের জটিলতা কেটে যায় এবং শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোটের দরজা খুলে যায়। জোটনেতা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে উদ্ধব ঠাকরের নাম মনোনীত করা হয়। আজ তারই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।

মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিবসেনা পেয়েছে ৫৬টি আসন। ১০৫টি আসন নিয়ে বৃহত্তম দল হয়েছে বিজেপি। এনসিপি ও কংগ্রেসের আসন সংখ্যা যথাক্রমে ৫৪ ও ৪৪। ২৮৮ আসনে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় সরকার গঠনের জাদু সংখ্যা হল ১৪৫। কংগ্রেস, এনসিপি ও শিবসেনা জোটের আসন ১৫৪টি।