উত্তরকন্যা অভিযান, কয়লা মাফিয়া ইস্যুতে বিজেপিকে তোপ মমতার

348

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল, ৮ ডিসেম্বর: সোমবার মেদিনীপুরের সভায় যেখানে শেষ করেছিলেন, মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের রানিগঞ্জের সিয়ারশোল রাজবাড়ি ময়দানে আয়োজিত প্রশাসনিক সভায় ঠিক সেখান থেকেই শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আসানসোল, রানিগঞ্জে কয়লা মাফিয়া প্রসঙ্গ থেকে সোমবার উত্তরকন্যা অভিযানে বিজেপি কর্মীর মৃত্যু-এসব ঘটনায় এদিন সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাগুলি বিক্রি, বন্ধ ও বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে তিনি পশ্চিম বর্ধমান জেলা সহ বাংলার সকলস্তরের নেতাদের লাগাতার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

- Advertisement -

রানিগঞ্জের সভা মঙ্গলবার দুপুর একটার সময় শুরু হবে বলে ঠিক ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন বিকেল তিনটে পর্যন্ত ভারত বনধের ডাক দিয়েছিল। তাই সোমবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সভার সময় দু’ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী সভায় আসেন তিনটের পরে। ৪০ মিনিটের ভাষণে তিনি ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে।

মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সভার সময় পিছোনোর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘দেশের কৃষকরা নিজেদের জমি বাঁচাতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। তাঁরা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে এদিন তিনটে পর্যন্ত বনধ ডেকেছেন। আমরা সরকারে আসার পরে বনধ বা ধর্মঘট করিনি। কিন্তু কৃষক ও চাষিরা যে দাবিতে এদিন ভারত বনধ ডেকেছেন সেটাকে আমরা সমর্থন করেছি। তৃণমূল কংগ্রেস কৃষকদের এই আন্দোলনে ছিল, আছে ও থাকবে। কৃষকরা আমাদের গর্ব। শ্রমিক আমাদের সম্পদ। আমরা সবসময় তাঁদের সঙ্গে আছি। তাঁরা যে আন্দোলন করবেন, সেটা আমরা সমর্থন করব। আমি নিজে সিঙ্গুরের কৃষি জমি বাঁচাতে আন্দোলন করেছিলাম। ২৬ দিন অনশন করেছি। আমরা কৃষকদের জন্য কৃষক বন্ধু প্রকল্প করেছি।’

এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, ‘বিজেপি কুৎসা ও অপপ্রচার করে। আমরা তা করি না। আমরা কাজ ও উন্নয়ন করি। নিজেরা মিছিল করে দলের কর্মীকে গুলি করে মেরে বলছে  পুলিশ মেরেছে। জানা উচিত, পুলিশ ছররা গুলি ব্যবহার করে না। বিজেপি নিজেরাই গুলি করে মেরে এখন প্রচার পাওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা দাঙ্গা করি না। ঘর জ্বালাই না। আমরা কাজ করি।’

মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, ‘এখন খুব কোল মাফিয়া কোল মাফিয়া বলছে। ইসিএলের কয়লাখনি বন্ধ করে দিচ্ছে আর এসব বলে বেড়াচ্ছে। কোল মাফিয়ারা তো বিজেপির সঙ্গে আছে। কয়লা তো কেন্দ্র সরকারের। তারা কী করছে? কয়লাখনিতে তো সিআইএসএফ পাহারায় থাকে। তারা কী করে? সেটা তো রাজ্য সরকার বা রাজ্যের পুলিশ দেখে না। নির্বাচনের সময় এলেই বিজেপি দলটা এসব করে ও বলে বেড়ায়। তারপর আর তাদের দেখা যায় না। এমপি তো আসানসোল থেকে জিতেছেন। তিনি কোথায়? তাঁকে কি দেখা যায়। তাঁর কাছ থেকে আসানসোল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া কী পেয়েছেন?’

এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসানসোল রানিগঞ্জে পুর্নবাসন প্রকল্পে তৈরি আবাসনের চাবি ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্পে ২৯ হাজার আবাসন তৈরি করা হবে। আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ বা আড্ডা, রাজ্য সরকারের হাউজিং বিভাগ ও জেলা প্রশাসন তা করছে। ফেজে ফেজে তা করা হবে। প্রথম ফেজে অন্ডাল, জামুড়িয়া ও বারাবনিতে ৯২৩২ জনকে দেওয়া হবে। এদিন ৩৫৮৪ জন পেলেন। বাকিরা শীঘ্রই পেয়ে যাবেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু আবাসন তৈরি করলে তো হবে না। সেখানে জল ও লাইটেরও ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।’