মুখ্যমন্ত্রীর দাওয়াইয়ে মুহুর্তেই চাঙ্গা দুই জেলার কর্মীদের মনোবল,  কি বললেন জেনে নিন

137

রায়গঞ্জ: সভা শুরুর অনেক আগেই ভর্তি হয়ে গিয়েছে রায়গঞ্জ স্টেডিয়াম। ভরা জনসভায় দাঁড়িয়েই বুধবার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন দলের নেতারা নন বরং স্তরের কর্মীরাই তার কাছে নেতা। খোদ দলনেত্রীর মুখে এমন কথা শোনার পর উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়াতে সেই উচ্ছ্বাসের উপরে ভরসা রাখতে চাইছেন তৃণমূলের শিবিরের নেতারা। এদিন রায়গঞ্জের স্টেডিয়াম মাঠ প্রাঙ্গনে উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বিশাল জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সভায় উত্তর দিনাজপুর জেলার কর্মীদের ভিড়ই বেশি ছিল। মূলমঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও অন্য মন্ত্রী বিধায়ক ও দুই জেলার শীর্ষ নেতাদের স্থান হয়েছিল। মঞ্চের দুপাশে বাকি দুটো মঞ্চে দুই জেলার অন্য নেতাদের বসার জায়গা করা হয়েছিল। যে মঞ্চগুলোতে এই অঞ্চলের এমন কোনও নেতা ছিলনা যিনি ডাক পাননি। তবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কিন্তু গুরুত্ব দিতে দেখা যায় মঞ্চের নিচে থাকা কর্মীদেরকেই। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৃণমূলের নেতারা দলের নেতা নন। তৃণমূলের বুথ কর্মীরাই দলের নেতা। তারাই নেতাদের পরিচালনা করা থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা দেখা কিংবা বুথ এজেন্ট হিসেবে বসেন। মানুষের কাছে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছন তাঁরাই। তাই নেতাদের বড় ছাতা হচ্ছেন কর্মীরা, যারা গ্রামাঞ্চলে রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে লড়াই করেন।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের পর প্রশ্ন উঠেছে, নেতাদের সঙ্গে কর্মীরাও চলে যেতে পারেন সেই আশঙ্কাতেই কি এমন বলেছেন তৃণমূল নেত্রী?  তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব কিন্তু সেই প্রশ্নকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, কর্মী সমর্থকরা মুখ্যমন্তরীর সঙ্গে আছেন কিনা সেটা এই দিনের ভিড় দেখলে স্পষ্ট হয়ে যাবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত লোকসভা ভোটে হারের পর দলের নিচু তলার কর্মীদের ওপর তার প্রভাব পড়েছিল। কর্মীদের একাংশের মনোবল ভেঙে গিয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন কিছু নেতাও। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী সভায় সেই কর্মীদের এদিনের উন্মাদনা দেখে রীতিমতো উচ্ছ্বাসিত তৃণমূলের উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার শীর্ষ নেতারা। তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইলাল আগরওয়াল বলেন, ‘বাস্তবেই বুথ কর্মীরা দলের সব। কিন্তু দিদি এদিন নিজের মুখে সেটা বলায় সেই কর্মীদের মনোবল অনেকটাই বাড়বে।’

- Advertisement -