কোচ ফাওলার নিজেই অনুপ্রেরণা জেজেদের

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : নিজেই জীবন্ত কিংবদন্তি তিনি। খুব স্বাভাবিকভাবে তাঁকে দেখে উদ্বুদ্ধ জেজে লালপেখলুয়া-বলবন্ত সিং-ইউজেনসন লিংডোরা। কোচ রবি ফাওলার শুধু কিংবদন্তি বলেই নয়, এই বয়সেও নিজেকে যে এত ফিট রেখেছেন, তা দেখে মুগ্ধ ফুটবলাররা। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর ফুটবল মস্তিষ্কই তুরুপের তাস হতে পারে এবারের মহারণে। কোচ হিসেবে ফাওলারকে এনে শুরুতেই বাজিমাত করেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষ। যা মানছেন এটিকে মোহনবাগানের কর্তাব্যক্তিরাও। এই পর্যায়ে একজন ফুটবলার চোখের সামনে থাকা মানেই বাড়তি প্রেরণা ফুটবলারদের কাছে। তবে ফাওলার অবশ্য শুধুই কিংবদন্তি হয়ে থাকতে রাজি নন। ক্লাবের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও ক্লিপিংসে দেখা গিয়েছে, নিজে সেটপিস হাতেকলমে করে দেখাচ্ছেন লাল-হলুদ কোচ। এখনও ফ্রি-কিকে অন্তত ৩০ গজ দূর থেকে নিখুঁত বল রাখছেন গোলে। যা দেখে অবাক দলের সকলেই। তাঁর দলে এমনিতেই আছেন সেটপিস কোচ টেরেন্স ম্যাকফিলিপস। সেটপিসে গোল করতে সিদ্ধহস্ত অ্যান্থনি পিলকিনটন, মাতি স্টেইনম্যানরাও। কিন্তু সকলেই বলছেন, হেডস্যার এই বিষয়ে সেরা। তাঁর ধারকাছে এখনও কেউ আসতে পারেননি।

ইতিমধ্যেই ডার্বির মেজাজ তৈরি হয়ে গিয়েছে লাল-হলুদ শিবিরে। দেবজিৎ মজুমদার-শংকর রায়-মহম্মদ রফিক-বলবন্তরা এর আগে এই ম্যাচের স্বাদ পেয়েছেন। তাঁদের জানা, কলকাতা ডার্বির গুরুত্ব এবং মাহাত্ম্য। তাঁরা সেই গল্প শোনাচ্ছেন জাঁক মাঘোমা, স্কট নেভিলদের। আবার একইভাবে তাঁরাও ইপিএল, স্কটিশ লিগ বা এ লিগের ডার্বির নানা মুহূর্তের কথা তুলে ধরছেন। যে হোটেলে আছে এসসি ইস্টবেঙ্গল দল, সেই হিলটন রিসর্টের রেস্তোরাঁয় রয়েছে লাল-হলুদের সফল প্রাক্তনীদের ছবি। ডার্বি এবং ক্লাবের জন্য তাঁদের কী কী অবদান, সেসব গল্পও শুনছেন বিদেশি ব্রিগেড। সুকুমার সমাজপতি থেকে কৃশানু দে, সবারই গল্পই হচ্ছে এই আড্ডায়। আবার চলছে মজার খুনশুটিও। মাঘোমাকে যেমন পাজি নাম দিয়েছেন সামাদ আলি মল্লিক। পাঞ্জাবিতে পাজি শব্দের অর্থ দাদা। মাঘোমা নিজেই জানিয়েছেন এই খবর, আমার নতুন ডাকনাম মাঘোমা পাজি। কে দিয়েছেন প্রশ্ন করতেই সামাদ আলি মল্লিকের নাম প্রকাশ্যে আসে। আসলে ফাওলার নিজেই চাইছেন, ডার্বির স্নায়ুর চাপ যেন গ্রাস না করে ফেলে ফুটবলারদের। তাই হালকা মেজাজে রাখার চেষ্টা চলছে প্রত্যেককে। সোমবারও ফুটবলারদের সঙ্গে মনোবিদের ক্লাস হয়েছে যাতে ফুটবলারদের মনের ওপর চাপ তৈরি না হয়। এমনকি প্রতিদিন ওই রেস্তোরাঁয় বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা থাকলেও অন্য দলগুলিকে নিয়ে আলাদা করে কোনও কথা হয় না।

- Advertisement -

রবি ফাওলার নিজেই বলেছেন, আমরা নতুন দল। সময় পেয়েছি কম। সেখানে এটিকে মোহনবাগান একই দল ধরে রেখেছে। তাছাড়া ওরা গত মরশুমের চ্যাম্পিয়ন। তাই চাপটা ওদেরই বেশি। নিশ্চিতভাবেই নিজের ফুটবলারদের ওপর থেকে চাপ সরাতে এটাও তাঁর অন্যতম পদ্ধতি হতে পারে। সম্ভবত চাপ কমাতেই বুধবার অনুশীলনও বন্ধ রাখছেন তিনি। কোচ নিজে তাঁর সহকারীদের সঙ্গে বসে এটিকে মোহনবাগানের খেলার ভিডিও বিশ্লেষণ করেছেন। কিন্তু ফুটবলারদের সামনে তুলে ধরেননি সেসব। তবে অনুশীলনে নিজের ফুটবলারদের ভুলত্রুটি নিয়ে প্রতিদিনই আলোচনা করছেন ভিডিও দেখিয়ে তাঁর দল কোনও ম্যাচ না খেলেই মাঠে নামবে। এটা যদি সমস্যা হয়, তাহলে সুবিধা হল, ফাওলারের কোচিং স্টাইল এবং নতুন ফুটবলারদের খেলার ধরন, কোনওটাই জানা নেই বিপক্ষের। অনেকেই মনে করছেন, কোচের মগজাস্ত্রই হতে পারে ডার্বির অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। যা অজানা ভারতীয় ফুটবলের। একেবারেই অজানা চমক হতে পারে প্রতিপক্ষ এটিকে মোহনবাগানের কাছে।