তাপস মালাকার, নিশিগঞ্জ : শীত আরেকটু পড়লেই গ্রামে গ্রামে শুরু হবে লড়াই আর তাই কোচবিহারের সাতমাইলে বড়ো হচ্ছে যোদ্ধারা। গ্রামবাংলায় মোরগ লড়াই-কে জনপ্রিয় করে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে কোচবিহারের একটি ফার্মার্স ক্লাব। তামিলনাড়ুর সালেম থেকে নিয়ে আসা হয়েছে অসিল প্রজাতির বিশেষ মোরগ। এক-একটি মোরগের দাম প্রায় দশ হাজার টাকা। মোরগগুলি বড়ো হলেই সেগুলি উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের বিভিন্ন গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই রাজ্য তো বটেই, গোটা দেশেই মোরগ লড়াই অত্যন্ত পুরোনো ও জনপ্রিয় খেলা। একসময় বিভিন্ন রাজ্যের রাজারাও এই খেলায় উৎসাহ দিতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মোরগ লড়াই কয়েকটি এলাকাতেই সংকুচিত হয়ে যায়। অনেক জায়গায় পশুপ্রেমী সংগঠনগুলির চাপেও এই খেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন মূলত জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এই মোরগ লড়াইয়ে প্রচলন রয়েছে। সালেম থেকে যে অসিল প্রজাতির মোরগ আনা হয়েছে, সেগুলির ডিম বা মাংস খাওয়া হয় না। লড়াইয়ে জন্যই সেগুলিকে উপযুক্ত পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বড়ো করে তোলা হয়। প্রায় আটমাসের প্রাপ্তবয়স্ক একটি মোরগের বাজারদর দশ হাজার টাকা। আগে লড়াইয়ে সময় দুটি মোরগের পায়ে ধারালো ছোটো ছুরি বেঁধে দেওয়া হত। ছুরির আঘাতে একটি মোরগের মৃত্যু হলে খেলা শেষ হিসাবে ঘোষণা করা হত। তবে এখন বেশিরভাগ মোরগ লড়াইয়ে ছুরি ব্যবহার করা হয় না। একটি মোরগ লড়াইয়ে জায়গা ছেড়ে চলে গেলে বা হতোদ্যম হয়ে পড়লে লড়াই শেষ বলে ধরা হয়ে জয়ী মোরগের মালিকের জন্য থাকে আর্থিক পুরস্কার। হারিয়ে যেতে বসা এই রেওয়াজকে কি ফের জনপ্রিয় করা য়াবে? সাতমাইল সতীশ ফার্মার্স ক্লাবের সম্পাদক অমল রায় জানান, ইনটারনেটের যুগে সব কিছুরই নতুন করে ব্র‌্যান্ডিং সম্ভব। হারিয়ে যেতে বসা মোরগ লড়াইয়ে আসর দেখতে এখন আর অন্য জায়গায় যেতে হবে না। আগ্রহীরা কোচবিহারেও বসাতে পারবেন মোরগ লড়াই। ইনটারনেট ঘেঁটেই তামিলনাড়ুর সালেম থেকে নিয়ে আসা হয়েছে অসিল মোরগ। বিনোদনের পাশাপাশি নতুন আয়ের পথ বের করাই উদ্দেশ্য আমাদের।