শুভজিত্ দত্ত, নাগরাকাটা : চায়ের জন্য খ্যাতি তো আছেই, এবার পাহাড়ে কফি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হল। প্রাথমিকভাবে কফি চাষের জন্য কালিম্পং জেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের কৃষি ও উদ্যানপালন দপ্তর, ডিরেক্টরেট অফ সিঙ্কোনা অ্যান্ড আদার মেডিসিনাল প্ল্যান্ট ও জিটিএ-র আওতাধীন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ফর হর্টিকালচারের উদ্যোগে পাহাড়ে কফি চাষ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কালিম্পং জেলার তিনটি ব্লকের ২৫টি গ্রামে কফি গাছ লাগানো হয়েছে। ফসল আসার আগেই কফি কিনতে পাইকারি ক্রেতারা আগ্রহ দেখিয়েছেন। এই প্রকল্পের নোডাল সংস্থা ডিরেক্টরেট অফ সিঙ্কোনা অ্যান্ড আদার মেডিসিনাল প্ল্যান্টের নির্দেশক স্যামুয়েল রাই বলেন, দার্জিলিং চা যেমন শুধু নাম বললেই মানুষ চেনে, তেমনভাবে কালিম্পং কফির জন্য যাতে পরিচিতি পায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।

২০১৮ সালের শুরুর দিকে কালিম্পংয়ে কফি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সিঙ্কোনা বাগানের সরকারি জমিতে প্রথম কফি গাছ লাগানো হয়। এছাড়া, কৃষকদের এই চাষে উত্সাহ দিয়ে তাঁদের জমিতেও কফি গাছ লাগানো হয়। বর্তমানে ১১৪৫ জন কৃষক তাঁদের জমিতে কফি গাছ লাগিয়েছেন। মংপু, লাটপাঞ্চার, মঞ্চং, গৈরিবাসে সরকারি জমিতে কফি গাছ লাগানো হয়েছে। দেড়বছর পর ওই গাছগুলি থেকে কফিবিন পাওয়া যাবে। প্রথম যখন এই উদ্যোগ নেওয়া হয় তখন কফি চাষের জন্য বিখ্যাত কর্ণাটকের কুর্গ ও চিকমাগালুর থেকে চারা আনা হয়েছিল। আরাবিকা প্রজাতির ওই চারা পাহাড়ের জলবাযুর সঙ্গে দিব্যি খাপ খাইয়ে নিয়েছে। তবে এখন যেহেতু পাহাড়ে কফি চাষের পরিধি ক্রমশ বাড়ানো হচ্ছে, সে কারণে নিজেরাই আরাবিকা প্রজাতির কফি গাছের চারা তৈরি করে নিচ্ছে চারটি দপ্তর। ডিরেক্টরেট অফ সিঙ্কোনা অ্যান্ড আদার্স মেডিসিনাল প্ল্যান্টের মংপু সহ আরও তিনটি জমিতে আড়াই লক্ষ চারা তৈরি হয়ে গিয়েছে। জিটিএ-র রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ফর হর্টিকালচার ১৪ হাজার চারা তৈরি করেছে। সংস্থার সিনিয়ার সায়েন্টিফিক অফিসার মহাদেব ছেত্রী বলেন, সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে। কালিম্পংয়ে ভালো মানের কফি উত্পাদনের যে সবরকম সম্ভাবনা রয়েছে, তা পরীক্ষা করার পরই চাষের জন্য এগোনো হয়েছে। এখন আর আমাদের চারার জন্য দক্ষিণ ভারতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না। কফি বোর্ড থেকে বীজ সংগ্রহ করে এখানেই চারা তৈরি করে নেওয়া হচ্ছে।

হাজারের ওপর কফিচাষির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার জন্য তৈরি করা হয়েছে ৪টি ক্লাস্টার। সেগুলির নেতারা চাষের বিষয়টি দেখাশোনা করছেন। কোনো সমস্যা হলে তা বিশেষজ্ঞদের জানাচ্ছেন। সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এতদিন স্থানীয় কৃষকদের মূল রুটিরুজি ছিল আদা, এলাচ, কমলালেবু চাষ। ভাইরাস সহ নানা রোগপোকা ও জলবাযুগত কারণে ওইসব ফসলের ফলন ক্রমশ নিম্নমুখী। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে কফিকেই বেছে নিচ্ছেন কৃষকরা। স্যামুয়েল রাই বলেন, এখনও খুব বেশি প্রচার না হলেও অনেকেই এখন কফিবিন কেনার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। অনেকে কফিবিন রপ্তানি করতেও আগ্রহী। নেপাল ও সিকিম থেকে ক্রেতারা এসেছিলেন। আমরা তাদের বলেছি, দেড়বছর পর ফল ধরতে শুরু করবে। ততদিন ধৈর্য ধরতে হবে।