জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ির বাবুপাড়ায় প্রতিদিন সকাল হয় রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠে। একশো বছরের পুরনো গ্রামোফোনে বেজে ওঠে রবীন্দ্রনাথের নিজের গলায় গাওয়া গান কিংবা কবিতা। শুধু রবি ঠাকুর নয়, গ্রামোফোনে শোনা যায় ইন্দুবালা, কৃষ্ণচন্দ্র দে, কাননবালা, নীহারবালা, পাহাড়ি স্যানালের গান। বাড়িতে আধুনিক প্রযুক্তির সব যন্ত্র থাকলেও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংককর্মী নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত এখনও রেকর্ড প্লেয়ারে গান শোনার অভ্যাস ছাড়তে পারেননি। নীলাঞ্জনবাবুর বাবুপাড়ার ফ্ল্যাটে গেলে দেখা যাবে তাঁর সংগ্রহে রয়েছে একশো বছরের পুরনো গ্রামোফোন রেকর্ড, টাইপরাইটার, ঘড়ি সহ বহু জিনিস। সযত্নে এসব রক্ষণাবেক্ষণ করেন নীলাঞ্জনবাবু। পুরনো জিনিসের প্রতি যাঁদের নেশা তাঁরা নীলাঞ্জনবাবুর এই ছোট্টো সংগ্রহশালা দেখতে মাঝেমাঝেই তাঁর ফ্ল্যাটে চলে আসেন।

নীলাঞ্জনবাবুর ফ্ল্যাটে শতবর্ষের গ্রামোফোন ছাড়াও রয়েছে বেশকিছু দুষ্প্রাপ্য রেকর্ড। রয়েছে ১০২ বছরের একটি পুরনো টাইপরাইটার। যা দিয়ে এখনও স্বচ্ছন্দে টাইপ করা চলে। রয়েছে তিনটি একশো বছরের পুরনো ঘড়ি, যেগুলি আজও সচল। এছাড়া রয়েছে পুরনো দিনের ফাউন্টেন পেনের নিব, বিভিন্ন নথি সহ আরও কত কী নীলাঞ্জনবাবু বলেন, ‘গান শোনার জন্য মোবাইল, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ থাকলেও গ্রামোফোন এবং রেকর্ড প্লেয়ারে রবীন্দ্রসংগীত শুনতে ভালো লাগে। রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠে তাঁর লেখা কবিতা শোনার অনুভূতিই আলাদা। গ্রামোফোন রেকর্ডে কাননবালা, ইন্দুবালা এবং মান্না দের কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দের গান নিয়মিত শুনি।’ প্রতিদিন গ্রামোফোন এবং রেকর্ড প্লেয়ার পরিষ্কার করেন তিনি। নীলাঞ্জনবাবু বলেন, বিভিন্ন সময়ে পুরোনো নথি এবং রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছে। আমার এই সংগ্রহশালাটি দেখতে বহু মানুষ আসেন। পুরনো জিনিসগুলি সংরক্ষণ করার জন্য নিজেই ব্যবস্থা করেছেন নীলাঞ্জনবাবু।

জলপাইগুড়ির সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত দেবাশিস ঘোষ বলেন, নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত চোখে আঙুল দিয়ে আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন পুরোনো মূল্যবান সামগ্রী ব্যক্তিগত উদ্যোগে কীভাবে সংগ্রহ করে রাখা যায়। চিকিত্সক পান্থ দাশগুপ্ত বলেন, নীলাঞ্জনবাবু গ্রামোফোন ও রেকর্ড প্লেয়ার রাখার পাশাপাশি অনেক পুরোনো সাহিত্য পত্রিকা সংরক্ষণ করেছেন। তাঁর কাছে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার প্রথম সংখ্যাটিও রয়েছে।