বিএড পড়ুয়াদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে রাতভর আটক কলেজ কর্তৃপক্ষ

964

পুণ্ডিবাড়ি: বিএড প্রশিক্ষণকারীদের প্রতারণার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার রাতভর টাকা ফেরতের দাবিতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে আটকে বিক্ষোভ করল পড়ুয়ারা। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার-২ ব্লকের ট্যাঙ্গনমারী এলাকায়। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে তাঁরা দেড় বছর আগে সেই কলেজে বিএড কোর্সের জন্য ভর্তি হলেও এ পর্যন্ত ২৬ জন প্রশিক্ষণকারীর কোনওরকম রেজিস্ট্রেশনও হয়নি এবং পরীক্ষাতেও বসতে পারেনি অথচ একই সঙ্গে ভর্তি হওয়া বাকি শিক্ষার্থীদের এক বছর আগেই রেজিস্ট্রেশন হয়েছে এবং তাঁরা প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়েছে। ইতিমধ্যে আজ থেকে দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। পরীক্ষায় বসার জন্য কিছুদিন আগে কলেজে ফর্ম ফিলাপ হয়।

সেক্ষেত্রেও ওই ২৬ জন পরীক্ষার্থীকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রেজিস্ট্রেশন না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ করতে পারবে না। এতে তখন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই শিক্ষার্থীরা। তাঁরা গত ১১ নভেম্বর ওই কলেজের কার্যালয়ে তালা বন্ধ করে রাখে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের একজনকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। অভিযোগকারী সায়নী মিত্র, মৌসুমী দাস, সায়ন্তনী সাহা, এন্তজুল ব্যাপারী, নুর ইসলাম শেখ প্রমুখ জানায় এক বছর আগে প্রথম সেমিস্টার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তখন আমাদের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় পরীক্ষায় বসতে পারিনি। কলেজ থেকে জানানো হয় গত মে মাসে স্পেশালভাবে সেই পরীক্ষা নেওয়া হবে। কিন্তু সেটাও হয়নি। ইতিমধ্যে আজ থেকে দ্বিতীয় সেমিস্টার শুরু হচ্ছে। অথচ কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি নিয়ে কোনওরকম সুরাহা করেনি। অথচ কারও কারও কাছে অগ্রিম কোর্স ফিও নেওয়া হয়েছে। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখেছি যে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাই আমরা গতকাল কলেজে টাকা ফেরত চাইতে গিয়েছি।

- Advertisement -

কর্তৃপক্ষ টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমরা তাদের আটকে রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাই। যতক্ষণ না পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ আমাদের টাকা ফেরত দেবে ততক্ষণ এই আন্দোলন চলবে। এবিষয়ে কলেজের তরফে বিমল চন্দ্র বর্মন জানান, আমরা পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা পরিকল্পনা ও প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে ভর্তি নিয়েছি। তাদের মেথড সাবজেক্টের জটিলতার কারণে রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এটা সম্পূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা পরিকল্পনা ও প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপার। বিষয়টি আমরা একাধিকবার সেখানে জানিয়েছি। তাঁরা গতকাল ওই ২৬ জনের পরীক্ষায় বসার জন্য রোল নম্বর ইস্যু করে পাঠিয়েছে। কিন্তু এখন তাঁরা পরীক্ষায় বসতে চাইছে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে তাঁরা কোনও কথাই শুনতে চাইছে না।ঘটনাস্থলে পুণ্ডিবাড়ি থানার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।