অঞ্জলির কাজে মুগ্ধ ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা

229

রণজিৎ বিশ্বাস, রাজগঞ্জ : কন্যাশ্রীর টাকায় স্টেশনারি দোকান করে ভবিষ্যত্ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন কলেজ ছাত্রী অঞ্জলি দাস। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নিজেই দোকান সামলাচ্ছেন। আগামীদিনের কন্যাশ্রীদের অনুপ্রেরণা দিতেই তার ছেড়ে যাওয়া হাইস্কুলের সামনে দোকান করেছেন অঞ্জলি। রাজগঞ্জের জমিদারপাড়ার ওই ছাত্রীর দোকান দেখতে এবং তাঁর থেকে আগামী পরিকল্পনা জানতে ইউনিসেফের দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল দোকানে যান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন পারমিতা উকিল, প্রিয়া নাগার এবং ফোটোগ্রাফার ফিরোজ আহমেদ। অঞ্জলির কাজে সন্তুষ্ট হয়ে বিষয়টি কন্যাশ্রী বইয়ে প্রকাশ করা হবে বলে প্রতিনিধিদল জানিয়েছেন।

রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের জমিদারপাড়ার সন্তোষ দাসের মেয়ে অঞ্জলি শিলিগুড়ির সূর্য সেন কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। অঞ্জলির বাবা কৃষক। মা গৃহবধূ। চার ভাইবোনের মধ্যে অঞ্জলি ছোটো। বড়ো দাদা এক বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে কাজ করেন। মেজদা গাড়ি মেরামতের গ্যারাজে কাজ করেন। ছোটো দাদা বেকার। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এক প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে অঞ্জলি অভাবের সঙ্গে লড়াই করে জমিদারপাড়া হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে কলেজে ভরতি হয়েছেন। অঞ্জলি বলেন, ২০১৭ সালে কলেজে ভরতি হওযার পর কন্যাশ্রী প্রকল্পে ২৫ হাজার টাকা পাই। সেই টাকা খরচ করে কী লাভ। দোকান করলে পরিবারের উপকারে লাগবে। এই ভেবে স্টেশনারি দোকান করি। আমি কলেজে গেলে ছোটো দাদা দোকান চালাতে পারবে। এতে বেকার ছোটো দাদারও সামান্য কর্মসংস্থান হবে। এই দোকান আরও বড়ো করে ভবিষ্যতে গড়ার স্বপ্ন রয়েছে। আমি আগামীদিনের কন্যাশ্রীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমার মতো স্টেশনারি দোকান করতে হবে তা নয়, তবে কন্যাশ্রীর টাকা ফালতু খরচ না করে নিজের বা পরিবারের উপকারে লাগে এমন কাজে লাগাতে।

- Advertisement -

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় দাস বলেন, অঞ্জলি আমাদের স্কুলের গর্ব। কন্যাশ্রীর টাকা পেয়ে বাজে খরচ না করে পরিবার ও তাঁর নিজের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দোকান করেছে। বিশেষ করে আমাদের স্কুলগেটের উলটোদিকে দোকান করায় অন্য কন্যাশ্রীরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছে। ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের প্রধান পারমিতা উকিল বলেন, কন্যাশ্রীর টাকা পেয়ে অঞ্জলি যে কাজ করেছে তা প্রশংসার যোগ্য। অঞ্জলির কাজ আগামীদিনের কন্যাশ্রীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। বিষয়টি সরকারি কন্যাশ্রী বইয়ে প্রকাশ করা হবে। এদিন ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজগঞ্জের বিডিও অফিসের কন্যাশ্রী ডেটা ম্যানেজার গোপাল বণিক, নোডাল টিচার অজিতকুমার মণ্ডল।