করোনা জয় করেও বাঁশঝাড়ের তাঁবুতে পড়ুয়া

জলপাইগুড়ি : করোনা জয় করে প্রথমে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অ্যাম্বুল্যান্সে এবং পরে ৮ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে বাড়ির কাছে এসেও বাড়িতে ঢুকতে পারলেন না ধূপগুড়ির এক ছাত্র। বাদ সাধল কনটেনমেন্টের বিধিনিষেধ। তাই বাড়ির পরিবর্তে কার্যত বাঁশঝাড়ের পাশে তাঁবু খাটিয়ে থাকতে হচ্ছে গধেয়ারকুঠি অঞ্চলের ওই কলেজ পড়ুয়াকে। ধূপগুড়ির বিডিও শঙ্খদীপ দাস এ বিষয়ে জানিয়েছেন, ওই ছাত্রের বাড়িকে কেন্দ্র করে কনটেনমেন্ট জোন করা হয়েছে। তাই ওই এলাকায় ঢোকা এবং বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। অন্যদিকে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সব্যসাচী মণ্ডল বলেন, ওই ছাত্রের থেকে তাঁর পরিবারের কেউ সংক্রামিত হয়েছেন কি না সেটা দেখার পরেই তাঁকে বাড়িতে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে।

কিন্তু প্রশাসনিক এবং স্বাস্থ্যকর্তার এই উত্তরকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশকর্মী এমনকি নার্সিং ছাত্রী করোনায় সংক্রামিত হয়েছিলেন। নিয়ম অনুসারে তাঁদের বাড়িকে কেন্দ্র করেও কনটেনমেন্ট জোন করা হয়। তাঁরা সুস্থ হয়ে নিজনিজ বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন। ওই স্বাস্থ্যকর্মী এবং পুলিশকর্মীদের পরিবারের সকল সদস্যের যে লালা পরীক্ষা করা হয়েছে এমনটাও নয়। এই ছাত্রের ক্ষেত্রেই কি অতিসক্রিয়তা দেখানো হচ্ছে? অন্তত এমনটাই মনে করছে একাধিক মহল। করোনামুক্ত হওয়া ওই ছাত্র অভিযোগ করেন, বাড়ি থেকে বলেছিল ধূপগুড়ি থানায় গিয়ে দেখা করে তারপর বাড়ি আসতে। সেই অনুসারে থানায় গেলে সেখান থেকে বলা হয় আমার বাড়ির এলাকা কনটেনমেন্ট জোন করা আছে। তাই অন্যের বাড়িতে গিয়ে থাকতে। থানা থেকে এমন উত্তর শুনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অ্যাম্বুল্যান্সের চালক ঝুঁকি না নিয়ে আমাকে জলঢাকা সেতুর কাছে নামিয়ে দেন। এরপরে ৮ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে বাড়ির এলাকায় পৌঁছাই।

- Advertisement -

ছাত্রটির প্রশ্ন, আমি সুস্থ অথচ আমাকেই বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি প্রশাসন। এমনকি পরিবারের সদস্যদের লালা পরীক্ষাও করা হয়নি। এক্ষেত্রে ধূপগুড়ির ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সব্যসাচী মণ্ডল বলেন, ছাত্রটির পরিবারের সদস্যদের উপসর্গ দেখা দিলে লালা পরীক্ষা করা হবে। তার আগে নয়। আপাতত ছাত্রটিকে ১৪ দিন অন্য কোথাও থাকতে হবে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কেন্দ্র বা রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে একটি নিয়মবিধি তৈরি করে দিলেও এখানে সেই নিয়ম একরকম রাখা হচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্তত ধূপগুড়ির এই ছাত্রটির ঘটনার পরে এমনটাই মনে করছেন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, নিয়ম যদি একই হত, তাহলে স্বাস্থ্যকর্মী বা পুলিশকর্মীরা কোভিড হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে এসে কনটেনমেন্ট জোনের বাড়িতে ঢুকে গেলেন কীভাবে?