গ্রামে ইন্টারনেটের গতি নেই, শহরে এসে নদীর চরে পরীক্ষা

647

শিলিগুড়ি : পড়ুয়াদের কাছে পরীক্ষা মানে উচ্চশিক্ষার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। করোনার জন্য পরীক্ষার পদ্ধতি বদলেছে। অনলাইন পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্নাতক হওয়ার এই লড়াইয়ের মধ্যে অন্য এক কঠিন বাস্তবতার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রিঙ্কি কুণ্ডু, সারথী রায়রা। স্থানীয় এলাকায় রয়েছে ইন্টারনেট সমস্যা। তাই শিলিগুড়ি শহরে এসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন চোপড়ার ঝাড়বাড়ি, রাজগঞ্জের মতো শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসা ওই পড়ুয়ারা। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য চড়া রোদ মাথায় নিয়ে অনেকে বেছে নিয়েছেন শহরের মধ্যে দিয়ে যাওয়া মহানন্দা নদীর চর এলাকা। ব্যস্ততার শহরের মধ্যেই কেউ আবার রাস্তার পাশে পার্কিংয়ে দাঁড় করানো স্কুটারের সিটে উত্তরপত্র রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একের পর এক উত্তর লিখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার লড়াই চালাচ্ছেন।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। করোনা আবহকে মাথায় রেখে অনলাইনে চলছে এবারের পরীক্ষা। সংশোধিত নির্দেশ অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কলেজগুলির ওয়েবসাইটে আপলোড করে দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৩০ মিনিটের মধ্যে উত্তরপত্র অনলাইন বা অফলাইনে কলেজে গিয়ে জমা দিতে হবে। বাড়ি থেকেই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে পারার সুবিধার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বাস্তব একটু অন্য রকম। চড়া রোদে মহানন্দার চর এলাকায় পরীক্ষায় মনোযোগী মুন্সী প্রেমচাঁদ কলেজের পরীক্ষার্থী অর্চনা রায়কে দেখেই বোঝা গেল। চোপড়ার ঝাড়বাড়ির বাসিন্দা অর্চনা রায় ও তাঁর প্রতিবেশী সহপাঠীরা কোনওভাবে গাড়ি ভাড়া করে শহরে এসে পরীক্ষা দেওয়ার উপযোগী জায়গা খুঁজতে চাদর পেতে চর এলাকায় বসছেন। অর্চনা রায় বলছিলেন, বাড়িতে  ইন্টারনেট ঠিকমতো কাজ করে না। করোনার জন্য পেয়িং গেস্ট রুম ছেড়ে গিয়েছিলাম। কোনও রাস্তা না পেয়ে গাড়ি ভাড়া করে আসছি। উত্তরপত্র কলেজে গিয়ে দিয়ে আসছি। পরীক্ষার সময়টুকুর জন্য মাথাগোঁজার কোনও জায়গা না থাকায় এখন চর এলাকা আমাদের ভরসা।

- Advertisement -

শিলিগুড়ি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার ধারেই পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নীলিমা রায়। রাস্তার ধারে পার্কিংয়ে রাখা একটি স্কুটারের বসার জায়গায় কোনওভাবে তিনি উত্তরপত্রে উত্তর লিখছিলেন। তিনি বলছিলেন, বাড়ির এলাকায় ইন্টারনেটের যা পরিস্থিতি তার ওপর ভরসা করা যায় না। রাজগঞ্জ থেকে রোজ কলেজের আশপাশে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুটার, বাইকের ওপর খাতা রেখে উত্তর লিখে কলেজে গিয়ে জমা দিচ্ছি। মহিলা কলেজ সংলগ্ন রাস্তার একপাশে মাটিতে বসেই পরীক্ষা দেওয়ার পর নকশালবাড়ির বাসিন্দা আরতি রায় বলেন, এটা হয়তো নিউ নর্মাল। কষ্ট তো হচ্ছে, কিন্তু তাই বলে পরীক্ষা দেব না, তা তো হয় না। ভালো ফলের আশায় তাই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে লড়াই করে চলেছি। আরতিদের কথা শুনেছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক ডঃ দেবাশিস দত্ত। তিনি বলেন, আমি ওদের কষ্টের কথা শুনেছি। কিন্তু আমাদের যে হাত-পা বাঁধা রয়েছে। ক্যাম্পাসের ভিতরে ওরা ঢুকতে পারবে না। ইউজিসির নির্দেশমতন কাজ করতে হচ্ছে। আশা করব আগামী পরীক্ষায় আর যেন এভাবে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে না হয়।