নেপথ্যে করোনা, আবির তৈরিতে ভাঁটা

90

গাজোল: দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মত এবছরও গাজোলের ২০ মাইলের মুরগিমারি গ্রামে একটি কারখানাতে দেখা গেল আবির ও রং তৈরির কাজে ব্যস্ত মহিলা শ্রমিকরা। বর্তমানে করোনা আবহের জেরে অনেকটাই কাজ কমেছে। বিগত দিনে এই আবির রং তৈরি হয়ে মালদা জেলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা সহ পাশাপাশি বিহারেও যেত। কিন্তু বর্তমানে করোনা প্রকপের জন্য ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। বিগত দিনে ৩০-৪০ জন শ্রমিক কাজ করতেন আবির কারখানায় কিন্তু বর্তমানে ৪ ভাগের ১ ভাগ শ্রমিক নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে কাজ কম থাকার জন্য। লাভ না হলেও বাজার ধরে রাখার জন্য ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীকে।

শ্রমিক রুম্পা বিশ্বাস জানান, তাঁরা বহু বছর ধরে এই আবির তৈরির কারখানায় কাজ করে আসছেন। বিগত বছরগুলোতে প্রচুর মহিলা শ্রমিক কাজ করতেন এই কারখানায়। বর্তমানে মহামারি করোনা প্রকোপে এবছর বহু শ্রমিক কম রেখেছে কারখানার মালিক। বিগত বছরগুলোতে রং উৎসবের দিনে এক মাস আগে থেকেই আবির তৈরির কাজ শুরু হয়ে যেত কারখানাতে। কিন্তু বর্তমানে তেমন বাজারের বেচা কেনার প্রভাব না থাকার ফলে এবছর দেরি করেই কারখানায় তৈরি হচ্ছে আবির। বিগত বছরগুলোতে মালিক গাড়ি করে বিভিন্ন জেলায় ও রাজ্যে পাঠাতো আবির রং কিন্তু এবছর বাইরে যাচ্ছেন আবির। জেলা ও ব্লক এর মধ্যেই সামান্য আবির তৈরি করে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। লাভ না হলেও বর্তমানে শুধু বাজার ধরতেই চলছে কারখানার আবির রং তৈরির কাজ।

- Advertisement -

কারখানার মালিক কুমারের সাহা জানান, এবছর আবির তৈরি করেও তেমন লাভ হবে না। শুধুমাত্র বাজার ধরে রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে আবির। বিগত বছরগুলোতে কারখানা থেকে আবির রং বিভিন্ন জেলায় যেত এবং পাশাপাশি বিহার রাজ্য এই আবির পৌঁছে যেত গাড়ি করে। করোনার জন্য দূরত্ব বজায় রাখছে লোকজন আবির ও রং খেলায় কতটা মানুষ এগিয়ে আসবে তা জানি না। এখনও করোনা বিষয় নিয়ে মানুষ অনেকটা আতঙ্কিত। আগামী দিনে কতটা এ বিষয়টা কাটিয়ে উঠবে তা জানিনা। এবছর সাধারণ মানুষ কতটা রং আবির খেলবে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।