উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি প্রয়াত

132

রায়গঞ্জ, ১৮ জুলাইঃ প্রয়াত হলেন উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং রায়গঞ্জ কালচারাল ফোরামের সম্পাদক পবিত্র চন্দ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়গঞ্জের একটি নার্সিংহোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।বিগত ২ মাস আগে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন পবিত্র বাবু। এরপর সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে ফের হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তাঁকে রায়গঞ্জের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান৷ এদিন পবিত্র বাবুর মরদেহ জেলা কংগ্রেসের কার্যালয়, বিদ্রোহী ক্লাব, রায়গঞ্জ পৌরসভা, রায়গঞ্জ গার্লস হাই স্কুল এবং দেবিনগর স্পোটিং অ্যাসোসিয়েশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর মরদেহে ফুল দিয়ে, তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রত্যেকে। তাঁর অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজ (বর্তমান রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়) এ ছাত্র রাজনীতি থেকে উত্থান পবিত্র বাবুর। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজে ছাত্র পরিষদ পরিচালিত ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। এরপর প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীর হাত ধরেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এরপর জেলায় জাতীয় কংগ্রেসের শক্তি বৃদ্ধিতে চেষ্টা চালিয়ে যান। ২০১১ সালে রায়গঞ্জ পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার হন। তবে, ২০১৭ সালে তিনি পরাজিত হন। এরপর তিনি রাজ্য সভাপতির হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। কিন্তু, একবছর যেতে না যেতেই আবার জাতীয় কংগ্রেসে ফিরে আসেন। একাধারে তিনি ছিলেন সাংস্কৃতিক প্রেমী। সদা হাস্য এই রাজনীতিবিদই জেলার বুকে সুস্থ সংস্কৃতি প্রসারে গড়ে তুলেছিলেন রায়গঞ্জ কালচারাল ফোরাম।

- Advertisement -

জেলার শিল্পীদের একত্রিত করে সুস্থ সংস্কৃতি প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি৷ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ছিল। দীর্ঘদিন দেবীনগর কালীবাড়িতে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী দীপালী উৎসবেরও তদারকি করেছেন তিনি। এদিন পবিত্র বাবুর মৃত্যু সংবাদ শুনেই নাসিংহোমে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করেছেন অসংখ্য গুনগ্রাহী। তবে, কিন্তু, বছর দুয়েক আগেই আচমকা তাঁর হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা যায়। বুকে তাঁর স্ট্রেন বসানো হয়। ধীরেধীরে সুস্থও হয়ে উঠেন।রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন।

গতবছর প্রথম করোনার সময় নিজের উদ্যোগে গ্রামের দুঃস্থ মানুষের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছিলেন। এবছর বিধানসভা ভোটে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্তের প্রচারে মুখ্য ভূমিকা নিতে দেখা যায় তাঁকে। ভোটের পরেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন পবিত্র বাবু। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।রবিবার ভোররাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাঁকে তড়িঘড়ি রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা করে ব্যর্থ করে, দুপুরে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। রবিবার তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে। রায়গঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক ও জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস, রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানী, বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী এবং রায়গঞ্জের শিল্পী, সাহিত্যিক, লেখকদের পাশাপাশি, ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।