নেওড়ার ভাঙনে দুই গ্রামের যোগাযোগ বন্ধ

শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি : নেওড়া নদীর ভাঙনে গ্রামের রাস্তাঘাট, জমি তলিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে এই নদীর ভাঙনের জেরে গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া উত্তর ঝাড় মাটিয়ালির সঙ্গে কালামাটি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে বারবার আর্জি জানালেও ভাঙন মোকাবিলায় কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। তবে সেচ দপ্তর ও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এলাকায় ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে। পঞ্চায়েত প্রধান জগবন্ধু সেন বলেন, পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। আপৎকোলীন পরিস্থিতিতে এলাকার ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করা যায় কি না সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্লক প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।

লাটাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ঝাড় মাটিয়ালির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নেওড়া নদীতে ২০১১ সাল থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছরে এই ভাঙন ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরেই গ্রামের প্রায় কয়েক বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মানব রায়, চন্দ্রমোহন রায়, নিরোদ রায়রা জানান, গোটা গ্রামেই নেওড়ার ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছরে একশো বিঘার বেশি জমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। লাটাগুড়ি-পানবাড়িগামী প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তাও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে, ময়নাগুড়ি ব্লকের কালামটি গ্রামে যাওয়ার রাস্তাটিও ভাঙনের কবলে পড়েছে, যার জেরে দুই গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা জগদীশ রায়, মহেশচন্দ্র রায়দের বক্তব্য, গ্রামের নাউয়াপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র ও শিশুশিক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তাটিও বিপজ্জনকভাবে ভেঙে গিয়েছে। বহু গাছ নেওড়ায় তলিয়ে গিয়েছে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সেচ দপ্তর, ব্লক প্রশাসন সর্বত্র এই ভাঙন মোকাবিলার আবেদন জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি।

- Advertisement -

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তথা লাটাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিমলা রায় বলেন, নেওড়ার ভাঙন সমস্যা সত্যিই উদ্বেগের। তবে গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে এত বড় কাজ করা সম্ভব নয়। মাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মহুয়া গোপ বলেন, পঞ্চায়েত সমিতির তরফে বিষয়টি সেচ দপ্তরকে জানানো হয়েছে। শীঘ্রই ভাঙন রোধে কাজ হবে বলে আমরা আশাবাদী। সেচ দপ্তরের মাল ডিভিশনের এক আধিকারিক জানান, দ্রুত ওই এলাকায় ভাঙন মোকাবিলায় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।