তৃণমূল ভাঙাতে যোগাযোগই মোক্ষম অস্ত্র মুকুলের

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : উত্তরবঙ্গের প্রতিটি ব্লক তৃণমূল নেতাদের নাম ধরে চেনেন তিনি। এমনকি জানেন তাঁদের সাংগঠনিক ক্ষমতা, আবার দুর্বলতাও। তাই ঘাসফুল থেকে পদ্ম শিবিরে গেলেও জেলার পুরোনো সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি তাঁর। তৃণমূল ভাঙাতে সেই যোগাযোগই এখন অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠেছে মুকুল রায়ের। উত্তরবঙ্গে এসে সেই পুরোনো অস্ত্রেই শান দিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি।

২০২১-এ উত্তরবঙ্গ দখলে তৃণমূলের প্রাক্তনী হিসাবেই ঘুঁটি সাজানো শুরু করলেন মুকুলবাবু। সোমবার দলীয় সভা শেষে শিলিগুড়ির সেবক রোডের হোটেলের ঘরে বসেই অনেক রাত পর্যন্ত একের পর এক বৈঠক করেন তিনি। ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময় ধরে রুদ্ধদ্বার আলোচনা করেন কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে। সূত্রের খবর, বিভিন্ন জেলার একাধিক তৃণমূল নেতা ওই রাতে গোপনে দেখা করেছেন মুকুলবাবুর সঙ্গে। নিজেরা না এলেও কয়েকজন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তাঁদের প্রতিনিধিকে পাঠিয়েছিলেন মুকুলবাবুর সঙ্গে কথা বলার জন্য। উত্তরের জেলায় জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলের ভরপুর ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি। সেইমতো মুকুল রায়কে ব্যবহার করতে চাইছে দল। কোথায় কোন গোষ্ঠীর সঙ্গে কোন গোষ্ঠীর গোলমাল চলছে তা জেনে নিয়ে একেবারে অঙ্ক কষে পা ফেলতে চাইছে পদ্ম শিবির।

- Advertisement -

মুকুলবাবুর পাশাপাশি সোমবার রাতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ লাগোয়া একটি আবাসনে দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তরবঙ্গের পর্যবেক্ষক সায়ন্তন বসু। ২০২১-এর নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোটকে কীভাবে নিজেদের পক্ষে টানা যায় তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি বিজেপির নির্বাচনি ইস্তাহারে ওপরের দিকেই যে থাকবে তা স্পষ্ট করেছেন সায়ন্তনবাবু। উত্তরবঙ্গ সংবাদকে তিনি বলেন, আগামী ২০২১ সালে দল ক্ষমতায় এলে পরিকল্পিত শিল্পনীতি তৈরি করে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিককে রাজ্যেই কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে। সায়ন্তন বসুর ওই ঘোষণাকে সুচতুর নির্বাচনি রণকৌশল বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেতারা। সায়ন্তনবাবু বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতির সমীকরণ বদলাবে। পরিকল্পনা পূর্ণতা পাওয়ার আগে প্রকাশ্যে আনলেই পুলিশ দিয়ে সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে। তাই সময়মতোই আমরা সবটা জানাব।

সূত্রের খবর, ওই রাতে নিশীথ প্রামাণিকের মাধ্যমে কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির পাঁচজন জেলাস্তরের তৃণমূল নেতা মুকুলবাবুর সঙ্গে বৈঠক করেন। দেখা করেন মালদার দুই তৃণমূল নেতা। লোক মারফত শিলিগুড়ির দুই প্রাক্তন কাউন্সিলার দেখা করতে চাইলেও মুকুলবাবু রাজি না হওয়ায় কথা এগোয়নি। মুকুলবাবু বলেন, অনেকের সঙ্গেই কথা হয়েছে। অনেকদিন বাদে উত্তরবঙ্গে এসেছি। তাই হিসেবটা একটু ভালো করে মিলিয়ে নিচ্ছি। পুরোনো লোকেরা অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। দীপাবলির পর ফের কয়েকদিনের জন্য উত্তরবঙ্গে আসব। তখন আরও বেশ কিছু মানুষের সঙ্গে আলোচনা হবে। বিধানসভা আসন ধরে ভোটের অঙ্ক কষেই পা ফেলছি আমরা। বিজেপি সূত্রের খবর, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভোট পরিচালনার জন্য ভারতী ঘোষের প্রশাসনিক দক্ষতা ও বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে চাইছেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতত্ব। সেইমতো রাজ্য নেতাদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।