শতবর্ষ পরে দিশাহীনতায় ছন্নছাড়া এদেশের কমিউনিস্টরা

কমিউনিস্ট নেতৃত্বে দেশে বারবার শ্রমিক আন্দোলন গণমুখী হয়েছে। পঞ্জাব, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থানে দুর্বার কৃষক আন্দোলন হয়েছে। কেরল, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করেছে কমিউনিস্ট পার্টি। কিন্তু এইসব গোলগোল তথ্য। তাতে প্রাপ্তি কী? লিখছেন বিপ্রর্ষি চট্টোপাধ্যায়

রাজনীতির ক্রূরতা কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, সেটা আমরা জুলিয়াস সিজারে পড়েছি। আবার জুলিয়াস সিজার এবং অ্যান্তোনিও ক্লিওপেট্রার কাজ নিয়ে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ে বাংলা সিনেমা জুলফিকারে অন্য আঙ্গিকে সেই ছবি ধরা পড়েছে। সেই ছবিতেই অনুপম রায় আমি আজকাল ভালো আছি গানে বলেছেন, যেন অভ্যাস বলে কিছু হয় না এ পৃথিবীতে, পালটে ফেলাই বেঁচে থাকা, আরও ১০০ বছর আমি বাঁচবই, জেনে রেখো, লেখা আছে স্পষ্ট দেয়ালে। অনেকটা সে ঢংয়ে দুশো বছর আগে একটা মানুষ বহু দশক আগে বলে গিয়েছিলেন চেঞ্জ ইজ দ্য ওনলি আনচেঞ্জেবেল ফিচার অফ দিস চেঞ্জেবেল ইউনিভার্স। পুরোনো সেই দাড়ি বুড়োর তত্ত্বে এই পৃথিবীর, এই সমাজের খেলা ঘোরানোর স্বপ্নে বুঁদ থেকে ভারতের মাটিতে ১০০ বছর পূর্ণ করে ফেলল কমিউনিস্ট পার্টি। ১৩ জন সদস্য ১৯২০ সালের ১৭ অক্টোবর এই পার্টির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাশিয়ায় তাসখন্দের মাটিতে। তার পর সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, ভারতে থেকেও বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তিকে সমর্থনের বিতর্ক, অভ্যন্তরীণ মতাদর্শগত সংগ্রাম, কর্মসূচি চর্চা, পার্টি বিভাজন ইত্যাদিতে ১০০ বছর পার করে ফেলল দলটি। প্রশ্ন উঠতে বাধ্য, এই জেন ওয়াই দুনিয়ায় শতবর্ষ প্রাচীন দলটির প্রাসঙ্গিকতা কতটা?

- Advertisement -

এই ১০০ বছরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ হয়েছে বেশ কয়েকবার। পার্টিকর্মীরা আত্মগোপন করে কাজ চালিয়ে গিয়েছেন, স্বাধীনতার লড়াই করেছেন, কারারুদ্ধ হয়েছেন। মহারাষ্ট্র সহ দেশের পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে শ্রমিক আন্দোলন গণমুখী চেহারা পেয়েছে। পঞ্জাব, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থানে দুর্বার কৃষক আন্দোলন দেখা গিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের পালে দেশে বামমুখী হাওয়া দেখা গিয়েছে বারবার। কেরল, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করেছে কমিউনিস্ট পার্টি। কিন্তু এইসব গোলগোল তথ্য। তাতে প্রাপ্তি কী? সংসদীয় ব্যবস্থায় অংশগ্রহণই কি কমিউনিস্ট দলের একমাত্র উদ্দেশ্য? অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এই প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষেত্রে এই প্রশ্নের উত্তর কখনোই হ্ঁয়া হতে পারে না। সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে শামিল কমিউনিস্টদের দায়িত্ব তাতে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। দলের কর্মসূচি এবং গঠনতন্ত্রে সেই কাজ ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে লেখা আছে। যদিও দীর্ঘকাল ধরে সংসদীয় ব্যবস্থাকে ব্যবহার করার সাফাই হিসেবে ভারতের কমিউনিস্ট দলগুলি বলে এসেছে, এতে জনগণকে রিলিফ দেওয়া যায়।

শ্রেণিহীন সমাজ, দিনবদলের খিদে, দ্বিধা-দ্বন্দ্বের দিন ঘোচানোর স্বপ্নে, সাম্যবাদের ডাক ইত্যাদি ভারী ভারী কথাগুলি আমার, আপনার কাছে, উত্তরবঙ্গের চা মহল্লায়, বনবস্তিতে কতটা অর্থবহ? একথা ঠিক খাদ্য, জমির অধিকার, ফসলের ন্যায্যমূল্য, ট্রাম ভাড়া কমানো, গণবণ্টন ব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত করার দাবিতে লড়াইয়ে মধ্য দিয়ে এরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। অপারেশন বর্গার মাধ্যমে নামে-বেনামে জোতদার, জমিদারদের লুট করা জমি উদ্ধার করে সেই সরকার কৃষকদের হাতে তুলে দিয়েছিল। বক্রেশ্বরে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, হলদিয়ায় পেট্রোকেমিক্যাল, সল্টলেকে ইলেক্ট্রনিক্স হাব তৈরি করেছিল। প্রতিবছর এসএসসি-পিএসসির মাধ্যমে সরকারি দপ্তরে কর্মী নিয়োগ হত। কিন্তু এত কিছুর পরেও প্রশাসনিক নির্ভরতা, নেতাদের পৃথিবী পার্টি অফিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়া, মাটির সঙ্গে নেতাদের দূরত্ব তৈরি হওয়া ইত্যাদির পর ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। সেও নয় নয় করে নবছর হয়ে গেল। সে সব ছেড়ে আলোচনা বরং বর্তমান নিয়ে করা যাক। প্রথম প্রশ্নটিই হল, আজও কি আদৌ প্রাসঙ্গিক শতবর্ষ প্রাচীন এই দলটি?

২০০৬ বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৫টি আসন জেতার পর থেকে প্রত্যেকটা নির্বাচনে ক্রমাগত সিপিএমের ভোট কমেছে। রক্তক্ষরণ হতে হতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে সিপিএম এখন অ্যনিমিক। তাহলে? ঝাঁপ বন্ধ হবে? ভারতে নানা বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে তৈরি হওয়া কমিউনিস্ট আন্দোলনের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার এখন সিপিআই(এম) নামক দলটার হাতে। ঘুণধরা কাঠ বেঁধে এখনও সংগঠনের কাঠামোটা যে ধরে রেখেছে দলটি। কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে বটে। লোকাল এবং জেলা কমিটির মাঝে জোনাল কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ব্রাঞ্চ এবং জেলা কমিটির মাঝে লোকাল কমিটি ভেঙে তার পরিসর বাড়িয়ে এরিয়া কমিটির রূপ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু কাঠামোটা বদলালেই কি প্রাঞ্জল প্রতিমা তৈরি হয়? ভিতরটা যে প্রতিদিন ক্ষয়ে যাচ্ছে। হুহু করে কমছে সদস্য সংখ্যা। তরুণদের দলে যোগ দেওয়ার অনীহা শোনা যায় নেতাদের কথাতেই। গণসংগঠনগুলিরও একই অবস্থা। খাতায়-কলমে সিপিএমের যুব সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ২০১৮-র তুলনায় ২০১৯-এ প্রায় ৫০,০০০ বেড়েছে বলে দাবি করেন সংগঠনের মুখপত্র যুবশক্তি পত্রিকার সম্পাদক ও কলকাতা জেলা সভাপতি কলতান দাশগুপ্ত। যদিও পার্টিতে যুবদের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।

প্রাক্তন যুবনেতা তথা সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিমের সাফাই, আমাদের দলের অন্তর্ভুক্তিকরণের একটা প্রক্রিয়া আছে। আমরা চাই যাঁরা যুব আন্দোলনে কাজ করছেন, তাঁরা আরও বেশি পরিমাণে যুবকদের মধ্যে কাজ করুন। তাঁরা তাঁদের সংগঠনের নেতা হয়ে উঠুন। সকলকে সিপিএমের নেতা হয়ে উঠতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। আমিও যুবনেতাই ছিলাম। পরবর্তীকালে নির্দিষ্ট পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে পার্টিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছি। ছাত্র সংগঠনের মেম্বারশিপ খাতায়-কলমে প্রায় ২০ হাজার কমেছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি প্রতিকুর রহমান। পার্টিতে ছাত্রদের অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গে কিছু ফাঁকফোকর স্বীকার করে তাঁর বক্তব্য, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পার্টির জেলা এবং এরিয়া কমিটিগুলিতে স্থানীয় ছাত্রনেতাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। এসএফআইয়ে প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্য পার্টির তরফে ছাত্র সংগঠনের দাযিত্বপ্রাপ্ত সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, কারও ভাইপো হলেই পদে, কারও ছেলে হলেই দলে- এই জাতীয় অবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া কমিউনিস্ট দলে চলে না। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগঠন পরিচালনা হয়। তাই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গণসংগঠন থেকে পার্টিতে অন্তর্ভুক্তি হয়। এই প্রক্রিয়া জারি আছে।

মহিলা সংগঠনের সদস্য রাজ্য সম্পাদক কনীনিকা ঘোষ জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে মহিলা সমিতির সদস্য সংখ্যা সামান্য হলেও বেড়েছিল। কনীনিকার যুক্তি, স্বস্তির তো কোনও নির্দিষ্ট সূচক থাকে না। তাই কোনও কিছুকেই স্বস্তিসূচক বলা যায় না। তবে মূল দলে এবং গণ আন্দোলনে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তি এবং অংশগ্রহণ আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। এ তো গেল দলের নিজস্ব মূল্যায়ন। কিন্তু মানুষ কী দেখছে? করোনা-আমপান-অতিবৃষ্টির ত্রিশূলবিদ্ধ দিশেহারা মানুষ শাসকদলের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়েছে। যে ক্রোধ কাজে লাগাতে গিয়ে বিজেপির মুখ পুড়েছে অনেক ক্ষেত্রে একই অভিযোগে। এই সময় সিপিএম নিজস্ব তহবিল থেকে ত্রাণ বিলি করেছে। গড়বেতা থেকে নন্দীগ্রাম, ২০১১-র পর থেকে বন্ধ সিপিএম পার্টি অফিস আবার খুলেছে। আমপান, লকডাউনে বিপর্যস্ত মানুষের জন্য পাড়ায় পাড়ায় বিনামূল্যে কিংবা ন্যায্যমূল্যে সবজি বাজার বসিয়েছে পার্টি। শ্রমজীবী ক্যান্টিন, জনতার হেঁশেল, লালমাটির রান্নাঘর নাম দিয়ে বিনামূল্যে অথবা ন্যূনতম সহায়কমূল্যে পেট ভরে খাওয়ানোর বন্দোবস্ত করেছে দল। এত জনকল্যাণ সত্ত্বেও একটা বড় কিন্তু থেকে যাচ্ছে।

কমিউনিস্ট দলের মানুষের কল্যাণে কাজ করা স্বাভাবিক। কিন্তু এর অভিমুখ? যে কাজের ফিরিস্তি দেওয়া হল, তা তো কোনও এনজিও-কে দিয়ে চলতে পারে। একটা কমিউনিস্ট দলের কি এই পদক্ষেপটুকু যথেষ্ট? কোথায় তার দিশা? কোথায় শাসকদলের ভুল-ত্রুটি, অন্যায়ে প্রতিবাদে রাস্তায় নামার জেদ? কোথায় সরকার নাড়িয়ে দেওয়া গণ আন্দোলন? আমপানে ত্রাণ না পাওয়া পরিবারগুলিকে নিয়ে উলুবেড়িয়ায় গণ আন্দোলন হয়েছে। সেটা স্বতঃস্ফূর্ত জঙ্গি আন্দোলনেও পরিণত হয়েছে। কিন্তু তারপর? সেইসব মানুষকে কি রাখা গেল দলের সঙ্গে? তাঁদের কি দেওয়া গেল নির্দিষ্ট রাজনীতির পাঠ? সরকার বিরোধী আন্দোলনে গতি আনা গেল? বিক্ষুব্ধ সব মানুষ শেষ পর্যন্ত দলের পতাকার তলায় দাঁড়ালেন? আন্দোলনের ধারাবাহিকতা রাখা গেল? এই সবকটা প্রশ্নের উত্তরই না। একটা বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কমিউনিস্ট দলের পার্থক্য হল, সাহায্য করার পাশাপাশি দল তার নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কথাগুলো, তার রাজনীতি, তার আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে তাঁকে দলের পক্ষে নিয়ে আসবে। যেমনটা কমিউনিস্ট পার্টি পেরেছিল ট্রাম শ্রমিক আন্দোলনে, তেভাগার সময়, খাদ্য আন্দোলনে। এমনকি বাবরি মসজিদ ভাঙার পরেও।

কিন্তু কোভিড-আমপান-অতিবৃষ্টি ত্রিফলায় বিদ্ধ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কোথায় সেই রাজনৈতিক পদক্ষেপ? কোথায় সেই ক্ষুরধার রাজনৈতিক চিন্তা? কোথায় সেই ইস্পাতকঠিন সংগঠন? কোথায় সেই মুখ, যাঁর জ্বালাময়ী বক্তৃতা পাল তুলবে দামাল দরিয়ায়? যাঁকে দেখে মানুষ ভরসা পাবেন? সিপিএমের অবশ্য নিজস্ব যুক্তি আছে। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, আমরা স্বার্থের রাজনীতি করি না। ভোট দিলে উন্নয়ন, না দিলে নয়- এটা তৃণমূলের রাজনীতি। আমরা রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে এই সংকটকালে কাজ করছি। এর সঙ্গে রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলতে চাই না। সরকার বিরোধী আন্দোলনে গতি না থাকার জন্য তিনি কোভিড পরিস্থিতিকে ঢাল করেছেন। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে জমায়েত করার রাজনৈতিক কর্মসূচি অবিবেচকের কাজ। আন্দোলন নিশ্চয়ই হচ্ছে, তবে তা স্বাস্থ্যবিধি মেনে। সেলিমের বক্তব্য, কেন্দ্রীয়ভাবে জমায়ে না করে ব্লকে ব্লকে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এপ্রসঙ্গে মনে পড়ল আমেরিকায় অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনের একটি ঘটনা। সেসময় মিডিয়ার ক্যামেরায় হঠাৎ ধরা পড়লেন এক অশীতিপর বৃদ্ধ, যাঁর গলায় ঝোলানো পোস্টারে লেখা, ব্যাক টু মার্কস। ঝাঁকে ঝাঁকে মিডিয়ার বুম এগিয়ে গেল তাঁর দিকে। প্রশ্ন, আপনি কি মার্কসবাদী? তিনি বললেন, কখনোই না। প্রশ্ন এল, আপনি কি কমিউনিস্ট? তিনি বললেন, প্রশ্নই ওঠে না। সবাই তখন জিজ্ঞাসা করল, তাহলে? ভদ্রলোক উত্তর দিলেন, আমি পৃথিবীর যে প্রান্তে জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছি, সেখানে মার্কসবাদের কোনও চর্চাই নেই, কমিউনিজমের নামগন্ধ নেই। কিন্তু জীবনসায়াহ্নে এসে উপলব্ধি করেছি মার্কসই ঠিক। মার্কসবাদ বিকল্পহীন। বঙ্গ সিপিএমের নেতারা কি শুনতে পেলেন? নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ বোঝাতে পারলে এভাবেই মানুষ সাড়া দেয়। রাজনীতির সংকট, বেহাল অর্থনীতি, ধর্মীয় ভেদাভেদ, গণতন্ত্র হত্যা, সংবিধান ভলুণ্ঠিত, মানুষের অধিকারে হস্তক্ষেপ, স্বাস্থ্য পরিষেবার দুর্দশা, দুর্নীতি, অপশাসনের বিরুদ্ধে ধর্মতাস নয়, দিশা দেখানোর রাজনীতিটা অত্যন্ত প্রয়োজন। শতাব্দীপ্রাচীন দলে খামতি সেখানেই।