কোথাও খাটাল, কোথাও ঘর-বেদখল শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিউনিটি হল

213

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : পুরনিগমের কমিউনিটি হলগুলি এখন দখল হতে শুরু করেছে। নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কোথাও কমিউনিটি হল দখল করে সেটি গোয়ালে পরিণত হয়েছে। কোথাও কমিউনিটি হলের দেওয়াল ভেঙে পাশের বাড়ির দেওয়াল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও হলের সামনে খাটাল বানিয়ে এমনভাবে দখল করা হয়েছে সেখানে কারও ঢোকার উপায় নেই। পুরনিগম সব দেখেও না দেখার ভান করে বসে রয়েছে। এর পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বস্তি এলাকার বাসিন্দারা। বস্তি এলাকার দুঃস্থ মানুষ যাতে বিয়ে সহ নানা অনুষ্ঠানের জন্য এই কমিউনিটি হলগুলি ব্যবহার করতে পারেন সেজন্যই এগুলি তৈরি হয়েছিল। পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র রামভজন মাহাতো বলেন, ‘এলাকায় সরকারি সম্পত্তি দখল হলে স্থানীয় কাউন্সিলারদের আগে সেটা দেখা উচিত। আমরাও কমিউনিটি হলগুলির বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নিয়ে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ করব।’

শহরে সব ওয়ার্ড মিলিয়ে প্রায় ২৫টি কমিউনিটি হল রয়েছে। যে ওয়ার্ডে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের সংখ্যা বেশি সেই ওয়ার্ডগুলিতে একাধিক কমিউনিটি হল রয়েছে। যেমন দশ হাজারেরও বেশি ভোটার রয়েছেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। ওই ওয়ার্ডে একসময় তিনটি কমিউনিটি হল থাকলেও এখন খাতায়-কলমে দুটি রয়েছে। সন্তোষীনগর ও গঙ্গানগরে থাকা এই দুটি কমিউনিটি হলের মধ্যে গঙ্গানগরের কমিউনিটি হলটি এখন স্থানীয় এক বাসিন্দার ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। কমিউনিটি হলটি এখন গোয়াল। এমনকি সেখানেই জামাকাপড় টাঙানো হচ্ছে। এক প্রশ্নের উত্তরে ওই বাসিন্দা বলেন, আমরা প্রথম থেকেই ঘরটি এভাবে ব্যবহার করছি। ওয়ার্ড কাউন্সিলার দুর্গা সিংয়ে সাফাই, আমরা ওয়ার্ড কমিটির তরফ থেকে  কমিউনিটি হলটি যাঁরা দখল করে নিজেদের মতো ব্যবহার করছেন, তাঁদের সরতে বলেছিলাম। তবে এখনও তাঁরা সরেননি। তাই পুরনিগমের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। তবে এখনও কোনো কাজ হয়নি। দুর্গাদেবী যখন নিজের এলাকার কমিউনিটি হল গোয়ালে পরিণত হওয়ার বিষয়ে নিজের দায় এড়াতে ব্যস্ত তখন শহরের আরেক বড় বস্তিকেন্দ্রিক ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কমিউনিট হলগুলির একাংশ প্রকাশ্যে দখল হয়ে রয়েছে। প্রায় সাড়ে বারো হাজারেরও বেশি মানুষের এই ওয়ার্ডে পাঁচটি কমিউনিটি হল রয়েছে। এর মধ্যে মহারাজ কলোনির কমিউনিটি হলটি প্রায় সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পুরনিগমের তরফে একাধিকবার নতুন করে কাজ শুরুর আশ্বাস দেওয়া হলেও বর্তমানে সেটি দখলদারদের কবজায়। পরিস্থিতি এমনই যে, ওই হলটির সামনে য়ে  খালি জায়গা ছিল সেটিও দখল শুরু হয়ে গিয়েছে। এমনকি সেই কমিউনিটি হলের একপাশের অংশ পুরোপুরি খাটালে পরিণত হয়েছে। যদিও ওই খাটাল মালিক এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। দুর্গানগরের কমিউনিটি হলটির একপাশের দেওয়াল ভেঙে তাতে পাশের বাড়ির দেওয়াল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলার পরিমল মিত্রকে ফোন করা হলে তিনি বলেন,  আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি। শুধু এই দুই ওয়ার্ডই নয়, শহরের বস্তিকেন্দ্রিক ওয়ার্ডগুলিতে থাকা কমিউনিটি হলগুলির একাংশ এভাবে দখল হয়ে থাকার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক মদত রয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

- Advertisement -

গান্ধিনগরের বাসিন্দা অশোক মাহাতো বলেন,আসলে স্থানীয় রাজনৈতিক মদত না থাকলে কোনওভাবেই কমিউনিটি হলগুলি এভাবে দখল হয়ে থাকতে পারে না। উলটে দখল না হওয়া কমিউনিটি হলগুলিও দখলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাতে পুরনিগমের মাথাব্যথা নেই। আদর্শনগরের বাসিন্দা প্রকাশ দাস বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমাদের বিয়ে সহ যাবতীয় অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে সুবিধার জন্যই এই কমিউনিটি হলগুলি তৈরি করা হয়েছিল। দখলদারের দাপটে এখন এই কমিউনিটি হলগুলিতে ঢোকাই কার্যত বন্ধ।