বৃহন্নলাদের খাবার জোগাতে কমিউনিটি কিচেন

348

কোচবিহার : লকডাউনের জেরে রোজগারের সমস্ত দিক বন্ধ থাকায় কোচবিহারের বৃহন্নলারা রুটিরুজি হারিয়ে সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নেতা-মন্ত্রী সহ বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে পাওয়া ত্রাণও পর্যাপ্ত নয়। এমন অবস্থায় কর্মহীন বৃহন্নলাদের খাবার জোগাতে মৈত্রী সংযোগ সোসাইটি উদ্যোগী হল। রবিবার থেকে কোচবিহার-১ ব্লকের ঘুঘুমারিতে তাদের উদ্যোগে কমিউনিটি কিচেন চালু করা হয়েছে। সেখানে ২৮ জন বৃহন্নলা নিজেরাই রান্না করে খাওয়াদাওয়া সারছেন। লকডাউনে প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিনদিন এই কিচেন চালু থাকবে। যাঁরা সেখানে অংশ নিতে পারছেন না সংগঠনের তরফে তাঁদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

কোচবিহার জেলায় প্রায় ১৫০ জন বৃহন্নলা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই বিভিন্ন ট্রেনে, বিয়েবাড়িতে, নবজাতকদের আশীর্বাদের মাধ্যমে উপার্জন করে থাকেন। কয়েকজন যাত্রাতেও অভিনয় করেন। লকডাউনে রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রথমে কয়েকদিন জমানো টাকায় খাবার জোগাড় করলেও বর্তমানে তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ঘুঘুমারিতে কমিউনিটি কিচেন চালু করা হয়। রবিবার সেখানে ভাত, মাছের ঝোল, ডাল, বড়ার পাশাপাশি গ্রামেরই কয়েকজনের দেওয়া পাটশাক ভাজা মেনুতে ছিল। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সুমি দাস বলেন, যাঁরা আমাদের কমিউনিটি কিচেনে আসতে পারছেন না, তাঁদের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন খাবারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সকলের সহযোগিতা পেলে আরও বেশি দিন করা হবে।

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে জয়া রায় বলেন, আমি সাধারণত দিল্লি, বিহারে নাচ ও যাত্রা করতাম। কিন্তু এখন কাজকর্ম বন্ধ থাকায় সমস্যা হচ্ছে। এদিন কমিউনিটি কিচেনেই খাওয়াদাওয়া সেরেছি। মলি দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোনও কাজ নেই। আর্থিক অবস্থা এতটাই সঙিন যে ভবিষ্যত্ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েকজন বৃহন্নলা কুটিরশিল্পের মাধ্যমেও রোজগার করেন। এরকমই একজন ঈশ্বর চন্দ বলেন, পাটি দিয়ে ব্যাগ সহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে তা বিক্রি করতাম। এখন তো পুঁজিই শেষ। পেটে খাবারও নেই! পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছি।