চালুর আগেই ভেঙে পড়ছে কোটি টাকার শৌচালয়

387

আলিপুরদুয়ার : সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে বানানো হয় তিনটি শৌচালয়। পাশাপাশি শহরে অন্য এলাকাতেও বেশ কয়েকটি শৌচালয় তৈরি করা হয়। কিন্তু প্রায় ৯ মাস আগে শৌচালয় নির্মাণ হলেও তা চালু করা হয়নি বলে অভিয়োগ। ফলে চালুর আগেই শৌচালয়গুলির দরজা খুলে পড়েছে। শৌচালয়ে ভিতরে লাগানো জিনিসগুলিও ভেঙে পড়ে রয়েছে। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে শৌচালয় বানানোর পরেও সেগুলি চালু না হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অবশ্য শৌচালয়গুলি কাটমানি খাওয়ার জন্য বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। শৌচালয়ের বিষয়ে আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রশাসক শ্রী রাজেশ বলেন, ‘শৌচালয়গুলি পরিচালনার জন্য আমরা বিভিন্ন ক্লাব, এনজিওদের দায়িত্ব দিচ্ছি। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি সংস্থা সে দায়িত্ব নিয়েছে। বাকি শৌচালয়গুলিও দ্রুত বিভিন্ন সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে।’

প্রায় দুবছর আগে মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে আলিপুরদুয়ার শহরে চার হাজার শৌচালয় তৈরির জন্য ৩ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। পরবর্তীতে শহরে আরও ৮০টি কমিউনিটি শৌচাগার ও ২০টি সুলভ শৌচাগার তৈরির জন্য ৩ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য সরকার। এই বিপুল পরিমাণ টাকা পেয়ে শহরের একাধিক জায়গায় কমিউনিটি টয়লেট তৈরি সহ পুরসভার বাসিন্দাদের বাড়িতেও শৌচাগার তৈরি করে পুরসভা। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য কমিউনিটি টয়লেট তৈরিতে জায়গার অভাব দেখা দেয় শহরে। মূলত জায়গার অভাবে বাড়ি বাড়ি শৌচালয় তৈরি সহ জনসবতি এলাকাতেও থমকে যায় শৌচালয় তৈরির কাজ। যদিও আলিপুরদুয়ার শহরের বিভিন্ন এলাকায় মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে বেশ কয়েকটি কমিউনিটি টয়লেট তৈরি করে পুরসভা। ওই সময় প্যারেড গ্রাউন্ডেও তিনটি শৌচালয় তৈরি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, ওই শৌচালয়গুলি এখন সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। শহরের দুই একটি শৌচালয় খুলে দিলেও বেশিরভাগই আজও বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। সেই শৌচালয়গুলির দরজা, জানালা ভেঙে পড়েছে। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে এতগুলি শৌচালয় বানিয়ে তা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য খুলে না দেওয়ায় পুরসভার উপর ক্ষিপ্ত সাধারণ মানুষ।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার শহরের বাসিন্দা অমিত রায় বলেন, ‘শহরের যেসব জায়গায় শৌচালয় দরকার সেখানে তৈরি করা হয়নি। অপরিকল্পিতভাবে প্যারেড গ্রাউন্ডে শৌচালয় তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের কোনও কাজে আসবে না।’ আরেক বাসিন্দা সৌরভ সাহা বলেন, ‘শহরের কলেজ হল্ট, মাধব মোড়, কোর্ট মোড়, চৌপথি সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শৌচালয় দরকার। কিন্তু পুরসভা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় না বানিয়ে প্যারেড গ্রাউন্ডে তা তৈরি করেছে। সেগুলি আজও তারা চালু করতে পারেনি। আর চালু করলেও তা মানুষের কাজে আসবে না। এই কাজ সরকারি টাকা অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।’ বিজেপির জেলা সহ সভাপতি জয়ন্ত রায় বলেন, ‘প্রশাসনের সঙ্গে মিলে শাসকদলের নেতারা অপরিকল্পিতভাবে শৌচালয়গুলি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কাটমানি খাওয়ার জন্যই এই কাজ করেছেন তাঁরা। তাই তৈরির পরেও এই শৌচালয় চালানোর বিষয়ে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।’

তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার টাউন ব্লক সভাপতি দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরাও চাই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য শৌচালয়গুলি চালু করা হোক। করোনা পরিস্থিতির জন্য হয়তো এ কাজে বিলম্ব হচ্ছে। তবে যাতে দ্রুত শৌচালয়গুলি চালু করা যায় সে বিষয়ে প্রশাসকের সঙ্গে আমরা কথা বলব।’

ছবি- উদ্বোধন হয়নি শৌচালয়ের।

তথ্য-ভাস্কর শর্মা, ছবি- আয়ুস্মান চক্রবর্তী