রাজ্যে কিছু জায়গায় গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু, স্বীকার স্বরাষ্ট্রসচিবের

অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যে কিছু জায়গায় গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। সোমবার একথা জানালেন স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই সপ্তাহ থেকেই রাজ্যজুড়ে প্রতি সপ্তাহে দুদিন লকডাউনের কথা জানান তিনি।

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রসচিব জানান, রাজ্যের কিছু এলাকায় করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে।  তাই আরও বেশী সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শনিবার গোটা রাজ্যে সম্পূর্ণ লকডাউন থাকছে। তবে প্রতি সপ্তাহে দিন বদলে যেতে পারে। সেটা আগাম জানিয়ে দেবে সরকার। আগামী সোমবার আবার বৈঠক করে লকডাউনের দিন ঠিক করা হবে। আপাতত আগামী সপ্তাহে বুধবার রাজ্যে সম্পূর্ণ লকডাউন থাকছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

গতকাল ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) দাবি করেছিল, ভারতে করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে ভারতে করোনা পরিস্থিতি যথেষ্টই খারাপ বলে দাবি করেছিল তারা। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন হসপিটাল বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ডক্টর ভি কে মোঙ্গা বলেছিলেন, ‘প্রতিদিন সংক্রামিতের সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি হচ্ছে। এটা সত্যিই দেশের পক্ষে খুব খারাপ অবস্থা। এই ছবিটা খুব খারাপ। এটা প্রমাণ করছে ভারতে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে।’

মোঙ্গা জানিয়েছিলেন, সংক্রমণ ক্রমাগত বড় শহর থেকে ছোট শহর ও গ্রামের দিকে ছড়াচ্ছে। এটা খুব খারাপ। তিনি বলেন, ‘আমরা দিল্লিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। কিন্তু মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, কেরল, গোয়া, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকাতে কী ভাবে তা মোকাবিলা করা সম্ভব।’ আইএমএ-র আশঙ্কা অন্ধ্রপ্রদেশ, অসম, বিহার, গুজরাত, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সরকার একাধিকবার দাবি করেছে, সেখানে গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়ায়নি।

গতকাল আলাপনবাবুও রাজ্য়ে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরুর বিষয়টি মানতে চাননি। তবে আজ তিনি নবান্নে সাংবাদিকক বৈঠকে স্বীকার করেন, রাজ্যে কিছু জায়গায় গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ লাগাতার বেড়েই চলেছে রাজ্যে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৪২ হাজার ৪৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে সংক্রামিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১১২ জনের। এপর্যন্ত রাজ্যে ২৪ হাজার ৮৮৩ জন করোনা আক্রান্ত সুস্থ হয়েছেন।