ডিলারের বিরুদ্ধে ব়্যাশনে কম চাল, আটা দেওয়ার অভিযোগ

413

পুরাতন মালদা: করোনার আবহে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত ব়্যাশনে চাল, গম বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ব়্যাশনে কারচুপি ঠেকাতে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তবুও ব়্যাশনে দুর্নীতি রোখা যাচ্ছে না। পুরাতন মালদায় ব়্যাশনে পোকা ধরা সামগ্রী এবং কম চাল, আটা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুরাতন মালদা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক ব়্যাশন ডিলারের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকরা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই এলাকায়।

পাঁচ বছরের বাচ্চা কোলে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন পুরাতন মালদার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুপালি হালদার। হাতে ধরা সন্তানের প্রায়োরিটি হাউস হোল্ড বা পিএইচএইচ কার্ড। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওই কার্ডে সাত কেজি চাল ও দু’কেজি আটশো পঞ্চাশ গ্রাম আটা পাওয়ার কথা। কিন্তু আদতে তাঁকে দেওয়া হল পাঁচ কেজি চাল এবং দু’কেজি আটা। প্রাপ্য চাল, আটা চাইতে গেলে মিলল ধমক। একই হাল শিখা হালদারের। চারটি পিএইচএইচ কার্ডে তাঁকে ২৮ কেজি চাল দেওয়া হলেও, পুরো চাল পোকায় কাটা। প্রাপ্য আটার পরিমাণ ১১ কেজি ৪০০ গ্রাম হলেও তিনি পেলেন দশ কিলো আটা। নিজেদের পাওনা বুঝতে গেলে তাঁরও জুটল ধমক। ব়্যাশনে পোকায় কাটা সামগ্রী ও কম চাল, আটা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা।

- Advertisement -

ডিলারের বিরুদ্ধে ব়্যাশনে কম চাল, আটা দেওয়ার অভিযোগ| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

পুরাতন মালদার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাপাড়ার ওই ব়্যাশন ডিলারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ওই এলাকার ব়্যাশন ডিলার স্মৃতিরাণী দাস অ্যান্ড সন্স। ব়্যাশন দোকান চালান তাঁর ছেলে কুণাল দাস। ওই দোকানের বহু গ্রাহক কম চাল ও আটা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। রূপালী হালদারের অভিযোগ, ‘আমার ছেলের ব়্যাশন এখান থেকেই পাই। সাত কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও দিল মাত্র পাঁচ কেজি। আটাও দিল মাত্র দু’ কেজি।‘

শিখা হালদারের অভিযোগ, ’আমাকে পোকায় কাটা চাল দেওয়া হয়েছে। আটা পেতাম সাড়ে এগারো কেজি। কিন্তু দিল মাত্র দশ কেজি।’ দোকানে উপস্থিত বহু গ্রাহকই এমন অভিযোগ করতে থাকেন। এই বিষয়ে ব়্যাশন ডিলার কুণাল দাস নিজের ভুল স্বীকার করে নিলে গ্রাহকরা শান্ত হন। পোকায় কাটা এবং দু’রকম চাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ’চাল দু’মাস পুরোনো। তাই পোকায় কেটেছে। আমাদের যা স্টক আছে তা মিলিয়ে দিচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে পুরাতন মালদা ব্লকের খাদ্য সরবরাহ আধিকারিককে ফোন করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।