হাসপাতালে মহিলাকে শারীরিক শোষণের অভিযোগ ডেপুটি সুপারের বিরুদ্ধে

553

বর্ধমান: সরকারি হাসপাতালের ঘরেই এক মহিলার ওপর শারীরিক শোষণ চালাচ্ছেন চিকিৎসক। যিনি শোষন চালাচ্ছেন তিনি আর কেউ নন পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ডেপুটি সুপার চিকিৎসক অনন্য ধর। তাঁর এই কুকীর্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই মঙ্গলবার ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই সহ গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। ভিডিও ভাইরাল হতেই ডেপুটি সুপার অনন্য ধর মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের এইচ ডি ইউ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও চিকিৎসকের এই কুকীর্তির নিন্দায় সরব হয়েছেন কাটোয়াবাসী।

- Advertisement -

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ডেপুটি সুপার অনন্য ধরের কুকীর্তির ভিডিও সোমবার রাত ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন এক মহিলা। মুহুর্তের মধ্যে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করে ওই মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বেশকিছু কথাও লেখেন। ওই মহিলা লিখেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী দেখুন কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার অনন্য ধর মহিলাদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে হাসপাতালের মধ্যেই মধুচক্র বা শারীরিক শোষণ চালাচ্ছে। আমাদের বাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবার লজ্জা।’ মুখ্যমন্ত্রীর কছে অনন্য ধরের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও রেখেছেন ওই মহিলা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই মহিলার পোস্ট করা ভিডিও ও বক্তব্য শুধু কাটোয়ার বাসিন্দা মহলেই নয়, চিকিসক মহলেও আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। ভিডিও দেখে হাসপাতালের অনেকেই নিশ্চিত হয়েছেন চিকিৎসক অনন্য ধরের ওই কুকীর্তি হাসপাতালে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্নদের শংসাপত্র দেওয়ার ঘরে ঘটিয়েছেন। প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও ভিডিওর সত্যতা অস্বীকার করতে পারেননি হাসপাতাল কর্মীরাও।

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার রতন শাসমল বলেন, ‘ঘটনার কথা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানিয়েছি। বিভাগীয় তদন্ত হবে। মহকুমা শাসকও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ছবিতে দেখা গিয়েছে ঘটনাটি হাসপাতালের একটি ঘরে ঘটেছে। অনন্য ধর এখন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’ একই সঙ্গে সুপার জানিয়েছেন, তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাটোয়ার মহকুমা শাসক প্রশান্তরাজ শুক্লা বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। উচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে, কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য হলে ডেপুটি সুপারকে এক্ষুনি বরখাস্ত করা উচিত। আর যদি ঘটনা সত্য না হয় তবে যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও পোস্ট করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’