হলদিবাড়িতে জলাশয় ভরাটের অভিযোগ

হলদিবাড়ি: লকডাউনের মধ্যেই প্রকাশ্যে দিনের আলোতে হলদিবাড়িতে জলাশয় ভরাট চলছে। বছর দুয়েক আগে শহরের ১১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের পর এবার ১০ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পুকুর তথা জলাশয় ভরাটের অভিযোগ উঠেছে।

রাজা রামমোহন চিলড্রেনস হ্যাপি হোম স্কুলের পেছনের গলির রাস্তার পাশে ভরাট হচ্ছে পুকুর। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া এলাকার নবনির্মিত শিশু উদ্যানের উলটো দিকে রাস্তার পাশেও ভরাট করা হচ্ছে পুকুর।অবশ্য এটাই প্রথম নয় এর আগে উত্তরপাড়া এলাকায় রাজ্য সড়কের পাশে জলাশয় ভরাট করে দোকান বানানো হয়েছে।

- Advertisement -

১১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকায় মাটি ফেলে সম্পূর্ণ ভরাট করা হয়েছে দুটি পুকুর। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ব্যস্ত প্রশাসন। সম্প্রতি হলদিবাড়ি শহরে এক স্বাস্থ্যকর্মীর দেহে করোনার সংক্রামণ ধরা পড়তেই সেই ব্যস্ততা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে হলদিবাড়ি শহরে বিভিন্ন এলাকায় পুকুর ভরাটের ধুম পড়েছে।

পুকুর ভরাট নিয়ে ক্ষুব্ধ হলেও এলাকার বাসিন্দারা বিবাদে জড়ানোর ভয়ে সরাসরি বাধা দিতে পারছেন না।বৃহস্পতিবার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রাজা রামমোহন চিলড্রেনস হ্যাপি হোম স্কুলের পেছনের গলির রাস্তা গিয়ে দেখা গেলে দেখা মিলে বিগত কয়েক দিনে মাটি ফেলে পুকুরের একাংশ ভরে ফেলা হয়েছে। উত্তরপাড়ার নবনির্মিত শিশু উদ্যানের উলটো দিকে রাস্তার পাশেও একই চিত্র দেখা যায়।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে হলদিবাড়ির বিএলআরও ইন্দ্রজিৎ দাঁ বলেন, লকডাউনের মধ্যে কিছুদিন বাইরে ছিলাম।দপ্তরের অন্য একজন দায়িত্বে ছিল। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হলদিবাড়ি পুরসভার প্রশাসক সঞ্জয় পন্ডিত অবৈধভাবে পুকুর ভরাট বন্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ পেলেই পুলিশের তরফেও অবৈধভাবে মাটি কেটে পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা বলা হয়।

ভূমি রাজস্ব দপ্তরের তরফে পদক্ষেপ নেওয়ার সত্ত্বেও আইন অমান্য করে যেভাবে পুকুর ভরাট চলছে, তাতে প্রশাসন নিশ্চিতভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে। পূর্বপাড়া এলাকায় দুইটি ও ধারানগর কলোনি এলাকায় একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগের পর এবার ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনায় স্পষ্ট, পুকুর ভরাটে যুক্তরা আইন ও প্রশাসনকে তোয়াক্কা করে না।

বিজেপির মেখলিগঞ্জ বিধানসভার কনভেনার স্বপন সরকার বলেন, ভূমি ও রাজস্ব দপ্তর শাসক দলের আঙ্গুলি হেলনে কাজ করছে। সেজন্যই প্রকাশ্যে এমন অবৈধ কাজ সম্ভব হচ্ছে। এর জেরে পরিবেশের ক্ষতি করা হচ্ছে। তৃণমূলের মেখলিগঞ্জ বিধানসভার কনভেনার অমিতাভ বিশ্বাস বলেন, বিষয়টিকে সমর্থন করা যায় না। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে বলা হবে।